বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফা আলোচনা মঙ্গলবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ৩০ সদস্যের মালয়েশিয়ান প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে রাজধানীতে পৌঁছেছে। আলোচনা শহরের একটি হোটেলে হবে।
মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে ২০ অধ্যায়ের একটি আলোচনা-কাঠামো (টার্মস অব রেফারেন্স) চূড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ঢাকায় প্রথম দফার বৈঠক হবে। এতে পণ্যের বাজার সুবিধা, শুল্ক ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান প্রথমবারের মতো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তবে আলোচনার এজেন্ডায় কোন কোন খাত ঠিক কীভাবে থাকছে, সে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি মর্যাদা শেষ হওয়ার কথা; তবে সরকার তিন বছরের বাড়তি সময় চেয়ে জাতিসংঘের কমিটির কাছে আবেদন করেছে, যা এখনো বিবেচনাধীন। উত্তরণ হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ এখন একাধিক দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৩৮টি সম্ভাব্য অংশীদারের ওপর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে বাংলাদেশ; এটি এখনো দুই দেশের সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শেষ হলেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাকি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রাথমিক অনলাইন আলোচনা অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরে শুরু হতে পারে। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চার দফা আলোচনা হয়েছে এবং ১৯ সদস্যের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) জোটে যোগ দেওয়ার চেষ্টাও চলছে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য ও শ্রমবাজার। দুই দেশের সম্পর্কে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ও কর্মী নিয়োগ আলাদা প্রক্রিয়া। এফটিএ আলোচনায় শ্রমিকদের অধিকার, নিয়োগ খরচ বা চিকিৎসাকেন্দ্রের বিষয় থাকবে কি না, সরকারি বিবৃতিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
চুক্তির সুফল নিয়েও সতর্কতা আছে। গবেষণা সংস্থা র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, বাংলাদেশ আরসিইপিতে যোগ দিতে পারলে আলাদা করে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তির বাড়তি সুবিধা সীমিত হতে পারে। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি বেশি জরুরি, কারণ সেখানকার শুল্ক সুবিধা হারালে রপ্তানির বড় অংশ ঝুঁকিতে পড়বে।
এখনো যা জানা যায়নি: কোন কোন পণ্যে শুল্ক কমানো হবে, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে কী অঙ্গীকার থাকবে, চুক্তি কবে শেষ হবে এবং এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর আলোচনার পরের দফাগুলোতে স্পষ্ট হতে পারে। দুই পক্ষের যৌথ বিবৃতি বা চুক্তির পূর্ণ খসড়াও এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
আগামী ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবরের বৈঠক শেষে পরবর্তী দফার তারিখ ঠিক হবে। চুক্তি হলে তা দুই দেশের সংসদীয় অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যাবে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে এর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করছে শুল্ক ছাড়ের পরিমাণ ও নতুন বাজার সুবিধার মেয়াদের ওপর।



