ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া বাজারে আগুনে সাতটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। শনিবার, ২৪ অক্টোবর রাত আটটার দিকে বুড়াইচ ইউনিয়নের এই বাজারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে ফায়ার সার্ভিসের বরাতে জানিয়েছে জাগো নিউজ ও আজকের পত্রিকা।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, গুদামগুলোতে থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া পাটের আনুমানিক মূল্য তাঁরা দুই কোটি টাকা বলেছেন। তবে এই অঙ্ক ফায়ার সার্ভিসের চূড়ান্ত হিসাব নয়। আগুনের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফলে ব্যবসায়ীদের দেওয়া মূল্যকে এখনই সরকারি হিসাবে নিশ্চিত ক্ষতি বলা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, রাত আটটার দিকে বাজারের একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান লোকজন। পরে তা আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। সাতটি পাটের গুদামের পাশাপাশি একটি চায়ের দোকান এবং দুটি কাঁচামালের দোকান পুড়ে যায়। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে পাট রাখার গুদাম ছাড়াও বাজারের অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এসে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এর আগে গুদাম ও দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কত মালামাল উদ্ধার হয়েছে, তার আলাদা হিসাব ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন লাগার খবর পেয়েই দুই উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তিনি কিছু মালামাল রক্ষা করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজও চলছে।

দুটি প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে পুড়ে যাওয়া পাটের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার মণ এবং মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব। কতজন ব্যবসায়ীর মালামাল গুদামগুলোতে ছিল কিংবা প্রত্যেকের কতটা পাট পুড়েছে, তার পূর্ণ তালিকা পাওয়া যায়নি। সেই তালিকা ও আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন ছাড়া ব্যক্তিভেদে ক্ষতির পরিমাণ আলাদা করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এখনো অমীমাংসিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগুনের উৎস। কোথায় প্রথম আগুন দেখা গেছে, স্থানীয় লোকজন তার বর্ণনা দিয়েছেন; কিন্তু সেই বর্ণনা থেকে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হয় না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কারণ অজানা থাকার কথাই বলেছেন। তাই বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে এই পর্যায়ে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও ঘটনার পূর্ণ চিত্রের জন্য তদন্ত এবং ক্ষতির হিসাবের ফল জানা জরুরি। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, ফলিয়া বাজারের সাতটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের পার্থক্য রেখে পরবর্তী তথ্য জানাতে হবে। নতুন করে কারণ বা ক্ষতির হিসাব নিশ্চিত হলে সেই তথ্যেই ঘটনার বিস্তারিত স্পষ্ট হবে।