মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আট দিন আগে ভোট জালিয়াতির তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, গত নির্বাচনগুলোতে অথবা আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির তথ্য যে ব্যক্তি দেবেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে জালিয়াতিতে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করা গেলে তাঁকে ওই অর্থ দেওয়া হবে।
ওই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পর মিসিসিপিতে দলীয় নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে বিমানে ওঠার আগে তিনি বলেন, ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলে ওই ব্যক্তিকে ১০ লাখ ডলার ‘বোনাস বা পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এ নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস; ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তারা মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তবে কীভাবে এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে, কে আবেদন যাচাই করবে বা অর্থটা কোথা থেকে আসবে—এসবের কোনো বিস্তারিত ট্রাম্প জানাননি। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরস্কারের অর্থায়ন কীভাবে হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ফলে ঘোষণাটি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এটি ট্রাম্পের প্রথম এ ধরনের ঘোষণা নয়। এর আগেও তিনি বহুবার দাবি করেছেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে। কিন্তু ওই দাবি আদালতে টেকেনি; কোনো আদালত তা সমর্থন করেনি। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির প্রমাণিত ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।
একই দিন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। রোববারের দ্বিতীয় দফার ভোটে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা চতুর্থবারের মতো জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনটি ‘খুব দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভয়ানক’ দেখাচ্ছিল। ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকেও তিনি ‘খুবই অদ্ভুত’ বলেছেন।
ব্রাজিলে লুলা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল নেতা ফ্লাভিও বোলসোনারোকে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। ২০২৩ সালে লুলার কাছে জাইর বোলসোনারোর পরাজয়ের পর তাঁর সমর্থকদের একটি দল কংগ্রেস ভবনে হামলা চালিয়েছিল; তখনও তারা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগও সম্প্রতি ভোট জালিয়াতির বিষয়ে নজর বাড়িয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তারা ৩০ হাজার ডলারের একটি পুরস্কার কর্মসূচি চালু করে, যেখানে সামাজিক সেবা খাতে জালিয়াতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সোমবার তারা অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে ৪৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ঘোষণা করে; এর আগে ১২ অক্টোবর আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
জালিয়াতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে বিতর্কও আছে। রক্ষণশীল থিংক ট্যাংক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের তথ্যভান্ডারে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভোট জালিয়াতির ৫৫৭টি প্রমাণিত ঘটনা নথিভুক্ত আছে, যার মধ্যে ফৌজদারি দণ্ড বা অন্য কোনো আদালত বা সরকারি সংস্থার সিদ্ধান্ত রয়েছে। দেশব্যাপী নির্বাচনে জালিয়াতি ব্যাপক—এমন দাবির তুলনায় এই সংখ্যাটি ছোট।
নতুন ঘোষণার সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলরা আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় সমন্বয় বাড়িয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন ‘আইনকে রাজনীতিকরণ ও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করছে।
এখনো স্পষ্ট নয়, এই পুরস্কারের কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না, আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্ব কার, এবং এ জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন বা বাজেট বরাদ্দ লাগবে কি না। নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা আদালতে চ্যালেঞ্জও হতে পারে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে ২৪ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট শুরু হয়েছে; নির্বাচনের দিন ৩ নভেম্বর। পুরস্কারের ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।



