চলতি অক্টোবরের প্রথম ২৬ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩০ হাজার ১৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি। বাসস মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব প্রকাশ করেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার; সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।

বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর একদিনেই এসেছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে টাকার অঙ্কটি হিসাব করা হয়েছে। এর আগে ১-২৪ অক্টোবরের হিসাবে এসেছিল ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা ছিল গত বছরের একই সময়ের ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলারের চেয়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

দুই হিসাবের পার্থক্যও লক্ষণীয়। ২৫ ও ২৬ অক্টোবর এই দুই দিনে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার যোগ হওয়ায় ২৪ দিনের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ২৬ দিনে ১৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাসের শেষ দুই দিনে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আগের দিনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

জুলাই থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারে (১১ দশমিক ০৪৪ বিলিয়ন)। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আমদানি ব্যয় মেটানোর একটি বড় উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার (৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন), যা এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসগুলোতেও প্রবাহ বেড়েছে: আগস্টে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাহ ছিল মার্চে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার।

তুলনায় অক্টোবরের প্রবৃদ্ধি ধীর। গত বছরের অক্টোবরে পুরো মাসে এসেছিল ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। চলতি বছরের অক্টোবরে ২৬ দিনে ২৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার এসেছে। হিসাব বলছে, বাকি পাঁচ দিনে গত বছরের মাসিক অঙ্ক ছাড়াতে হলে দিনপ্রতি গড়ে আরও প্রায় ২২ কোটি ডলার করে আসতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রতিবেদনে কোন দেশ থেকে কত রেমিট্যান্স এসেছে, তার বিস্তারিত বিভাজন নেই। দেশভিত্তিক তথ্য সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে পরে প্রকাশিত হয়। ফলে কোন দেশ থেকে প্রবাহ বাড়ল বা কমল, তা এই মুহূর্তে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা যাচ্ছে না। কোনো নতুন নীতি বা প্রণোদনা ঘোষণার কথাও এতে নেই।

এখনো অজানা পুরো অক্টোবরের চূড়ান্ত অঙ্ক এবং মাসিক প্রবৃদ্ধির হার। ৩১ অক্টোবর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক মাসিক হিসাব প্রকাশ করলে তা স্পষ্ট হবে। ওই তথ্যে দেখা যাবে, গত বছরের অক্টোবরের ২৫৬ কোটি ডলারের অঙ্ক ছাড়িয়েছে কি না এবং চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় আছে কি না।

প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়লে রিজার্ভ ও বিনিময় হারের ওপর চাপ কিছুটা কমে; প্রবাহ কমলে আমদানি ব্যয় ও ডলারের চাহিদায় চাপ বাড়ে। তবে এক মাস বা এক সপ্তাহের তথ্য দিয়ে পুরো বছরের ধারা নির্ধারণ করা যায় না। পরের সপ্তাহগুলোর হিসাব, বৈধ চ্যানেলে পাঠানো অর্থের অনুপাত এবং কর্মী পাঠানোর প্রবণতা—এসব মিলিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে হবে।