ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করেছে চীনের পানীয় কোম্পানি ডংপেং এবং দুগ্ধপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেংনিউ। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, প্রতিষ্ঠান দুটি এ সিদ্ধান্ত জানায়। সাবেক চীনা নেতা মাও সে তুংকে ঘিরে একটি মিম নিয়ে এমবাপ্পের কথোপকথন বলে প্রচারিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘোষণা আসে। বিবিসি এবং ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন সিদ্ধান্ত দুটির কথা জানিয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘোষণা এবং ভিডিওর সত্যতা দুটি আলাদা বিষয়। এএফপি জানিয়েছে, তাদের ফ্যাক্ট চেক বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। বিবিসির প্রতিবেদনেও প্রচারিত ক্লিপগুলোকে অযাচাইকৃত বলা হয়েছে। ফলে ভিডিওতে যা দেখা বা শোনা যাচ্ছে, তা নিশ্চিত বক্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। এমবাপ্পে সরাসরি মাওয়ের নাম বলেছেন—এমন দাবিও ওই প্রতিবেদন সমর্থন করে না।
ডংপেং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন আচরণের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর। তারা তাৎক্ষণিকভাবে এমবাপ্পের সঙ্গে সব সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা দেয়। মেংনিউও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে সব সহযোগিতা বন্ধের কথা জানায়। এএফপি প্রতিষ্ঠানটিকে চীনের সবচেয়ে বড় দুগ্ধপণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবিসি বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিবৃতিতে ভিডিওটির কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
বিবিসির বর্ণনা অনুযায়ী, ছড়িয়ে পড়া ক্লিপে একটি ফরাসি অনুষ্ঠান ‘দ্য ব্রিজ’-এ এমবাপ্পেকে তাঁর পছন্দের মিম নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে একজন ‘চীনা স্বৈরশাসক’-এর ছবিতে নিজের মুখ বসানো মিমের প্রসঙ্গ আসে বলে প্রতিবেদনটি জানায়। এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। কিন্তু মূল ভিডিওটি অনুষ্ঠানের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়নি এবং সাক্ষাৎকারটি প্রথম কবে প্রচারিত হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
চীনের ফুটবল ফোরাম ডংচিউদি সোমবার রাতে ওই কথোপকথনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর বিষয়টি ছড়ায় বলে জানিয়েছে বিবিসি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লিপ ও মিমের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো পোস্টে মিম বা বক্তব্যের অংশ ঝাপসা কিংবা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেকে ঠিক কী বলা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতেও প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত আলোচনার বিষয় হয়। এএফপির প্রতিবেদনে ডংপেংয়ের সহযোগিতা বন্ধের বিষয়টিকে শীর্ষ আলোচিত বিষয় বলা হয়েছে। বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা নাগাদ ওয়েইবোর শীর্ষ দশ আলোচ্য বিষয়ের পাঁচটি ছিল এমবাপ্পেকে নিয়ে। একাধিক ব্র্যান্ডের সম্পর্ক ছিন্ন করার হ্যাশট্যাগ তখন তালিকার শীর্ষে ছিল। এটি ওই প্ল্যাটফর্মে আলোচনার একটি চিত্র; সব চীনা নাগরিকের মতামতের পরিমাপ নয়।
বিষয়টির পেছনে মাওয়ের রাজনৈতিক অবস্থানও প্রাসঙ্গিক। মাও ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি তাঁকে জাতীয় প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে। বিবিসির ব্যাখ্যায়, তাঁকে ঘিরে কৌতুক বা মিম চীনের রাজনৈতিক ইতিহাসের সংবেদনশীল বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। তবে এই প্রেক্ষাপট প্রচারিত ক্লিপের সত্যতা নিশ্চিত করে না।
বিবিসি এমবাপ্পে ও রিয়াল মাদ্রিদের মন্তব্য চেয়েছে বলে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে তাঁদের জবাব পাওয়া যাওয়ার কথা বলা হয়নি। আপাতত নিশ্চিত উন্নয়ন হলো ডংপেং ও মেংনিউর সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা। মূল সাক্ষাৎকারের সময়, সম্পূর্ণ কথোপকথন এবং প্রচারিত ক্লিপের সত্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সেই সীমাবদ্ধতা রেখেই ঘটনাটি দেখা প্রয়োজন।



