গাজীপুরের শ্রীপুরে ভোররাতে একটি বাজারে ভয়াবহ আগুনে মসজিদ, ঝুট ও তুলার গুদাম এবং একাধিক দোকান পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে তিনটার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকার ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজারে সাখাওয়াত ও আকতারের মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় শ্রীপুরের মাওনা ফায়ার সার্ভিস। তাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের একটি এবং রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট যোগ দেয়। চারটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে রফিকুল ইসলামের স্যানেটারি সামগ্রীর দোকান, ফালান মিয়ার মুরগির দোকান, সফিকের ঝুটের গুদাম ও তুলার গুদাম, একটি ভাঙ্গারির দোকান এবং বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ পুড়ে যায়। বাজারের ভেতরে ও আশপাশে এসব প্রতিষ্ঠান থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
শ্রীপুরের মাওনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল করিম দুটি সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর বলা যাবে।
স্থানীয়ভাবে ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজার নামে পরিচিত এই বাজারটি শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়ায় অবস্থিত। বাজারের ভেতরে ঝুট, তুলা ও পুরোনো মালামালের গুদাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়ায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এসব গুদামে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আগুনে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের দোকানই বেশি। পরিবার চালানো এসব দোকানের মালিকরা এখন ক্ষতির হিসাব করতে পারছেন না। কেউ হতাহত না হলেও এক রাতের আগুনে তাদের ব্যবসার একটি বড় অংশ হারিয়ে গেছে।
একই বাজারের ভেতরে থাকা বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদটিও আগুনে পুড়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মসজিদটি এলাকার বাসিন্দাদের নামাজের অন্যতম প্রধান জায়গা। ক্ষতির পরিমাণ কত এবং মসজিদটির কোন অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গুদামে রাখা মালামালের অবস্থা কিংবা অন্য কোনো কারণ—কোনটি আগুনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে, তা তদন্তের পরই বলা সম্ভব হবে। ক্ষতির পরিমাণও প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
এখনো যা অজানা
আগুনে মোট কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, কতটি দোকান পুরোপুরি পুড়েছে এবং কতগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এর সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো আসেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেওয়া হবে কি না এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। মসজিদটি মেরামত করে কবে নামাজ চালু করা যাবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদনে আগুনের কারণ ও ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে। এর পরই বোঝা যাবে, বাজারের গুদামগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী করা যেতে পারে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্তের কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।



