নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সন্ধ্যার পর প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে শিয়ালের কামড়ে ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে প্রথম রোগী বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এর পর একে একে আরও রোগী আসতে থাকেন। আহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও নয়জন পুরুষ। তাঁরা সবাই বাগাতিপাড়া পৌরসভার বাসিন্দা।
হাসপাতাল ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কামড়ের ঘটনা ঘটেছে পৌরসভার ঘোরলাজ, নওশেরা, বারইপাড়া, সোনাপাতিল, মালঞ্চি ও পেড়াবাড়িয়া মহল্লায়। আহতদের সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন।
আহতদের একজন পূর্ব সোনাপাতিলের বাসিন্দা ইমরান আলী (৪২)। তিনি জানান, সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে সেন্টারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি শিয়াল তাঁর পায়ে কামড় দেয়। পা ঝাঁকিয়ে তিনি শিয়ালের মুখ থেকে মুক্ত হন। হাসপাতালে এসে তিনি আরও আট থেকে দশজনকে শিয়ালের কামড়ে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে দেখেন।
সোনাপাতিলের আকরামুল হক (৫২) জানান, বাড়িতে ঢোকার সময় গেট খোলামাত্র পেছন থেকে এসে শিয়ালটি তাঁর পায়ে কামড় দেয়। আর মাইনুল ইসলাম জানান, বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পথে শিয়ালটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। পৌরসভার মালঞ্চি এলাকার বাসিন্দা পলি খাতুনও কামড়ের শিকার হন; হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় তাঁকে কামড় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে প্রথম রোগী আসেন, এরপর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এত অল্প সময়ে এত রোগী আসায় চিকিৎসকেরা বিস্মিত হয়েছেন, তবে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মজুত আছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ, শিয়ালে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শিয়ালের কামড়ে এতজন আহত হওয়ার ঘটনা বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়েছে এবং বিভাগের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। রাজশাহী থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া এলাকাবাসীকে সচেতন করতে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত নতুন কোনো রোগী হাসপাতালে আসেননি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিয়ালের কামড় জলাতঙ্কের ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশে কুকুর ও বন্য প্রাণীর কামড়ে আহত মানুষকে নিয়মিত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। কামড়ের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা ও টিকা নেওয়া এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
এখনো যা অজানা
প্রাণীটি ধরা পড়েছে কি না, এটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না, এবং একই শিয়াল একাধিক ব্যক্তিকে কামড়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। রাজশাহী থেকে বিশেষজ্ঞ দল কবে আসবে এবং প্রাণীটির খোঁজে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সময়সূচিও জানানো হয়নি। বাগাতিপাড়ায় আগে শিয়াল লোকালয়ে ঢোকার ঘটনা ঘটেছিল কি না, তার সরকারি হিসাবও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বন্য প্রাণী লোকালয়ে ঢোকার ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের মাইকিং ও বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শের পর পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



