নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিজের ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ফকির জহির রহমান (৪০) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এই হামলা হয়। স্থানীয়ভাবে তিনি জহির ফকির নামেও পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে দোকান বন্ধ করে বাসার দিকে যাওয়ার সময় ১৫ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁর পথ আটকে দেয়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। আশপাশের লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ফকির জহির রহমান আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খরিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় একটি ফার্মেসি ছিল। পুলিশ বলছে, পৈতৃক বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও তিনি কয়েক বছর ধরে মুন্সিগঞ্জ সদরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের ভাগনে ইসমাইল হোসেন ও বিল্লাল হোসেনের অভিযোগ, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ফকির জহির রহমানের পুরোনো বিরোধ ছিল। তাঁদের দাবি, এর আগেও কয়েক দফায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে এবং এবারও পূর্বপরিকল্পনা করেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি এবং পুলিশ কোনো ব্যক্তির নাম নিশ্চিত করেনি। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে হামলা হলো, সে বিষয়ে তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।
ওসি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব খোরশেদ আলম জানান, ফকির জহির রহমান দলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। এই নেতা প্রায়ই তাঁকে বলতেন যে তাঁকে মেরে ফেলা হবে। কার সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
জাগোনিউজ২৪ জানিয়েছে, বক্তব্যের জন্য আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এই ঘটনায় দলের কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রার্থিতা কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলাটি হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো কোনো রাজনৈতিক কারণ নিশ্চিত না করায় হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো অস্পষ্ট। ফার্মেসি বন্ধ করে রাতে বাড়ি ফেরার পথে হামলার ঘটনা এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এখনো যা অজানা
হামলায় ঠিক কতজন অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের পরিচয় কী, অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কেউ আটক হয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হবে কি না, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সঠিক কারণ কী উঠে আসে এবং তদন্ত কত দ্রুত অগ্রসর হয়, সেটিও দেখার বিষয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়া, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার—এই তিনটি ধাপেই ঘটনার পরবর্তী চিত্র স্পষ্ট হবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হামলার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তির নাম পুলিশ নিশ্চিত করেনি।



