দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম এখন ১৯ হাজার ৪০৫ টাকা। কমানোর আগে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন সোনার দর ছিল যথাক্রমে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১, ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ ও ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা। অর্থাৎ ২১ ক্যারেটে ভরিতে কমেছে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৩৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় ১ হাজার ১০৮ টাকা।
একই দিনে রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি এখন ৪ হাজার ২৪ টাকা; আগে ছিল ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। ভরিতে কমেছে ১৭৫ টাকা। প্রতি গ্রাম রুপার দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৫ টাকা। অন্যান্য মানের রুপার দামও প্রায় একই হারে সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ সোনার দাম কমেছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন দর ঠিক করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত; গহনার নকশা অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে।
এটি চলতি মাসে সোনার দাম কমানোর দ্বিতীয় দফা। গত ১৩ অক্টোবর বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার ভরি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়েছিল। তার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়ার ধারায় দেশেও কয়েক দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফলে এক দিনের পতনকে একক প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম নিম্নমুখী। বৃহস্পতিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৮৫ ডলার ২৯ সেন্টে নেমেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগকে এ পতনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। প্রথম আলো জানিয়েছে, গত এক মাসে আউন্সপ্রতি দাম প্রায় ১৫০ ডলার এবং গত ছয় মাসে ৫৭৪ ডলার কমেছে।
সাধারণভাবে যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার সময় সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয় এবং দাম বাড়ে। কিন্তু প্রথম আলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এবার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। মার্কিন ডলারভিত্তিক বন্ডের সুদ বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা সে দিকে ঝুঁকছেন; এর ফলে সোনার দাম কমছে।
দাম কমার সরাসরি সুবিধা মিলবে গহনা কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের। তবে গহনা কেনার সময় নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হওয়ায় দোকানে প্রকৃত খরচ বাজুসের তালিকার চেয়ে বেশি হতে পারে। অন্যদিকে আগে বেশি দামে সোনা কিনেছিলেন বা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন, এমন মানুষের জন্য দাম কমা ক্ষতির কারণ হতে পারে। পুরোনো সোনা বিক্রির দর বাজুসের নতুন তালিকার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।
এখনো স্পষ্ট নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পতন কত দিন চলবে এবং দেশের বাজারে আরও দফায় দাম কমানো হবে কি না। বাজুস এ বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দেয়নি। সংগঠনটির নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সর্বশেষ নির্ধারিত দরই কার্যকর থাকে।
নতুন দর আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশের জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হয়েছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও জ্বালানির দর এবং মার্কিন বন্ডের সুদের গতিপ্রকৃতি নজরে রাখতে হবে, কারণ এসবই দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।



