নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার টাংকি খালসংলগ্ন এলাকায় গত ১৯ অক্টোবর দুপুর একটার দিকে একটি স্টিল বডির ল্যান্ডিং ক্রাফটে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ হাজার কেজি লাল চিনি জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি চালায়। জব্দ হওয়া চিনির বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিনির চালানটি অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। যে ল্যান্ডিং ক্রাফটে করে চিনি পরিবহন করা হচ্ছিল, সেটিও জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যান; ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা যায়নি। জব্দ হওয়া চিনি ও নৌযানের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ল্যান্ডিং ক্রাফটের ওপর চিনির বস্তাগুলো স্তূপ করে রাখা ছিল এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নৌযানটিতে তল্লাশি চালাচ্ছেন। অভিযানটি দুপুরের দিকে হওয়ায় ওই সময় নৌপথে সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের চলাচলও ছিল।
চিনি বাংলাদেশের বাজারে দাম-সংবেদনশীল ভোগ্যপণ্য। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্য বাজারে বৈধ আমদানিকারকদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করে এবং সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। এ কারণে চোরাচালানি পণ্য জব্দের ঘটনাগুলোকে শুধু একটি নৌ-অভিযান হিসেবে নয়, বাজারের স্বাভাবিকতা ও সরকারি আয়ের প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হয়।
হাতিয়া উপকূলীয় দ্বীপ হওয়ায় এখানকার খাল ও মেঘনা মোহনা দিয়ে নৌপথে পণ্য চলাচল করে। ফলে এসব রুট চোরাচালানের জন্যও ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন এর আগেও হাতিয়ায় বিভিন্ন পণ্য জব্দের অভিযান চালিয়েছে; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পণ্যের মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, চোরাচালান প্রতিরোধে তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। জরুরি সহায়তার জন্য নাগরিকরা কোস্ট গার্ডের ১৬১১১ নম্বরে ফোন করতে পারেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
তবে জব্দ হওয়া চিনির প্রকৃত মালিক কে, চালানটি কোথা থেকে এসেছে এবং কোন পথে বাজারে পৌঁছানোর কথা ছিল—এসব বিষয়ে কোস্ট গার্ডের প্রকাশনায় কিছু বলা হয়নি। কেউ আটক না হওয়ায় এ ঘটনায় মামলা হবে কি না, তাও নিশ্চিত নয়।
স্থানীয়ভাবে চিনির দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বৈধ আমদানি ও শুল্ক পরিশোধের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জব্দ অভিযানের পর জব্দকৃত পণ্যের আইনানুগ পরিণতি কী হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ হওয়া চিনি ও ল্যান্ডিং ক্রাফটের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।



