আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে পৌঁছেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল। ফিফা আয়োজিত প্রথম অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে দলটি বাকু পৌঁছায়। দল এখন বাকুর অ্যাথলেটস ভিলেজে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সবাই সুস্থ আছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দলের প্রথম অনুশীলন হওয়ার কথা।
২৪ অক্টোবর শুরু হবে মূল প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ওয়েলসের বিপক্ষে। গ্রুপ জি-তে বাংলাদেশের অন্য প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি ও বুরুন্ডি। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ অক্টোবর দিনে দুটি করে ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। অর্থাৎ গ্রুপপর্বে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলবে দলটি। ৩ নভেম্বর সকালে দলের দেশে ফেরার কথা।
এই আসর ফিফার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১৯১টি দেশ অংশ নিচ্ছে এবং বাকুতে আসছেন প্রায় তিন হাজার খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তা। ৩২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে দলগুলো ছয় ম্যাচডে-তে কয়েকশ ম্যাচ খেলবে। প্রতিটি দলে ১৪ জন খেলোয়াড় থাকবেন, তাঁদের জন্ম ২০১১ বা ২০১২ সালে। ম্যাচ হবে ৮ বনাম ৮ ফরম্যাটে, ২০ মিনিটের দুই অর্ধে; মাঠের দৈর্ঘ্য ৬৮ মিটার, প্রস্থ ৪৮ মিটার। বেশিরভাগ ম্যাচ হবে হোভসান কম্পিটিশন কমপ্লেক্সে, আর উদ্বোধনী ম্যাচ ও টায়ার ফাইনাল ক্রিস্টাল হলে।
এই আসরের বিশেষত্ব হলো প্রথম পর্বেই কেউ বাদ পড়ছে না। গ্রুপপর্বের ফল অনুযায়ী দলগুলোকে ছয়টি টায়ারে ভাগ করা হবে; এরপরও সব দল শেষ দিন পর্যন্ত খেলার সুযোগ পাবে। টায়ার এ-এর চ্যাম্পিয়নকে প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ফরম্যাটের উদ্দেশ্য তরুণদের বেশি ম্যাচ ও ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা দেওয়া।
বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক আসরে সুযোগ পেয়েছে কীভাবে? গত বছর দেশজুড়ে বাফুফের অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট সচল রাখার পুরস্কার হিসেবে এই সুযোগ এসেছে বলে গত আগস্টে বলেছিলেন বাফুফে অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মনজুর আলম। ওই সময় তিনি জানান, গত বছরের টুর্নামেন্টে বাছাই হওয়া ১৩৭ জন থেকে ২৫ জনকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছিল। চারজন প্রবাসী খেলোয়াড়সহ খোলা ট্রায়াল ও বয়স যাচাইয়ের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই আসরে দলপ্রতি খেলোয়াড় থাকতে পারেন ১৪ জন।
তবে আসর শুরুর আগে বাংলাদেশ দলের একাদশ, ম্যাচভিত্তিক পরিকল্পনা বা লক্ষ্য নিয়ে বাফুফের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কোচিং স্টাফ কীভাবে ওয়েলস ও পর্তুগালের মতো ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন, তাও এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দলের সর্বশেষ অনুশীলন ও ফিটনেস নিয়েও বিস্তারিত তথ্য নেই। ফলে প্রথম ম্যাচে দলের প্রকৃত সক্ষমতা কেমন হবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বড় মঞ্চে দেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের প্রথম বৈশ্বিক পরীক্ষাও। ওয়েলসের বিপক্ষে ভালো শুরু পেলে পরের ম্যাচগুলোয় আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ওয়েলসের পর বাংলাদেশ খেলবে পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি ও বুরুন্ডির বিপক্ষে। এরপর ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর হবে টায়ারপর্ব। ৩ নভেম্বর দল দেশে ফিরবে।



