টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির যৌথ ব্রিফিংয়ের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর বিএনপির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে দুই সরকারপ্রধানকে বাংলাদেশ ও জাপানের পতাকার সামনে আলাদা বক্তৃতামঞ্চে দেখা যায়। ভিডিওটির বিবরণেও স্থান ও তারিখ উল্লেখ করে একে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ব্রিফিং বলা হয়েছে।
এই ব্রিফিংয়ের আগে কান্তেইয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। টোকিও থেকে মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় সেখানে পৌঁছান তারেক রহমান। অভ্যর্থনার পর জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। সে সময় বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং দুই প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়ান।
মানবজমিন জানায়, অভ্যর্থনা শেষে দুই দেশের সফরসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তারেক রহমান পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। প্রতিবেদনে বৈঠকের ফল নিয়ে যৌথ ব্রিফিং এবং পরে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজের কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছিল। অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওটি ওই দিনের যৌথ ব্রিফিংয়ের দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বৈঠকের আগে প্রকাশিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীনের বরাতে বলা হয়, আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় থাকবে। বিভিন্ন খাতে জাপানের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান নিয়েও কথা হওয়ার কথা। এগুলো আলোচ্যসূচির তথ্য; এ প্রতিবেদন সেগুলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করছে না।
সফরের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গত ২০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। বিডিনিউজের প্রতিবেদনে কৃষি, মৎস্য সম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারের আধুনিকীকরণের মতো ক্ষেত্রের উল্লেখ রয়েছে।
কোন সমঝোতা স্মারক শেষ পর্যন্ত সই হয়েছে, বিনিয়োগের চূড়ান্ত অঙ্ক কত কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা কী—এখানে ব্যবহৃত প্রতিবেদন ও ভিডিওর পরিচিতিতে তার নিশ্চিত তালিকা পাওয়া যায়নি। তাই সম্ভাব্য সমঝোতার সংখ্যাকে স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যা বলা হচ্ছে না। একইভাবে ব্রিফিংয়ের দৃশ্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা বক্তাদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি অনুমান করা হয়নি।
সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। মানবজমিনের তথ্য অনুযায়ী, নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।
জাইকার সঙ্গে আলোচনায় চলমান অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত করা এবং দক্ষতা অংশীদারত্বের প্রস্তাব ওঠে বলে মানবজমিন জানিয়েছে। মারুবেনির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। চার দিনের কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর মূল বক্তব্য এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও রয়েছে। এসব আলোচনার বাস্তব ফল জানতে চূড়ান্ত ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য প্রয়োজন।



