কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় আগুন জ্বলে ওঠার পর ঘটনাস্থলে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও মানবজমিন। মাটির নিচ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন লাগার কথা বলা হলেও সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করতে চায় উপজেলা প্রশাসন।
বিডিনিউজের প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার বেলাল উদ্দিন জানান, নলকূপের জন্য মাটি খননের একপর্যায়ে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে তাতে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুনের প্রবাহ বেশি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। ঘটনাস্থলটি ছোট ইনানীতে একটি বাড়ির আঙিনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি; অন্য প্রতিবেদনে ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকার কথা বলা হয়েছে।
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যে পার্থক্য আছে। বিডিনিউজে বেলাল উদ্দিনের বরাতে সকাল সাড়ে নয়টার কথা বলা হয়েছে। সময়ের আলোর প্রতিবেদনে সকাল সাড়ে আটটা এবং মানবজমিনে ভোর সাড়ে পাঁচটার উল্লেখ রয়েছে। ফলে একটি সময়কে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া হচ্ছে না। তবে মঙ্গলবার নলকূপ খননের সময় আগুন লাগা এবং তা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কাজ করার বিষয়ে প্রতিবেদনগুলো একমত।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বিডিনিউজকে বলেন, খবর পেয়ে কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ করছেন। তাঁর প্রাথমিক ধারণা, ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এমন পরিস্থিতি হতে পারে। সময়ের আলোর প্রতিবেদনে উখিয়া স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের বরাতে তিনটি ইউনিট কাজ করার কথা জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ও আগুন জ্বলছিল।
মানবজমিনকে ঘটনাস্থল থেকে সাইদুল ইসলাম বলেন, নলকূপের পাইপ বসানোর জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি একে প্রাকৃতিক গ্যাস বললেও উপজেলা প্রশাসন পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বিডিনিউজকে জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আগুনের প্রভাব কেবল খননের জায়গায় সীমিত থাকেনি বলে সময়ের আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরাতে পত্রিকাটি জানায়, বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় পনেরো কিলোমিটার এলাকায় তেত্রিশ কেভি লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। কখন বিদ্যুৎ ফিরেছে, ব্যবহৃত প্রতিবেদনে তার হালনাগাদ তথ্য নেই।
ঘটনাস্থলের কাছের হোটেলে কর্মরত স্থানীয় এক যুবক সময়ের আলোকে বলেছেন, আগুনের পাশের ঘরে কয়েকজন হোটেলকর্মী থাকেন। হঠাৎ আগুন দেখে তাঁরা ভয় পান। এই বক্তব্য আশপাশের মানুষের উদ্বেগের কথা জানায়। তবে ব্যবহৃত প্রতিবেদনগুলোতে হতাহত বা সম্পদের ক্ষতির কোনো নিশ্চিত হিসাব নেই। তাই আগুনের দৃশ্য থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা মানুষের অবস্থা অনুমান করা যাচ্ছে না।
এখন মূল প্রশ্ন হলো, কী ধরনের গ্যাস বের হচ্ছে এবং এর উৎস কী। ইউএনও জানিয়েছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে আগেও ওই এলাকায় গ্যাস পাওয়ার কথা শুনেছেন তিনি। সেই বক্তব্যকে পরীক্ষার ফল হিসেবে ধরা যায় না। এখানে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে বা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন সম্ভব—এমন সিদ্ধান্তের কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। পরীক্ষার ফল, আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্যই পরিস্থিতি পরিষ্কার করবে।



