অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও শুক্রবার থেকে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে বিক্রি শুরু হয়েছে। কোম্পানিটি গত ১৬ অক্টোবর প্রি-অর্ডার শুরু করেছিল। প্রথম ধাপে ফোনটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
ফোনটির শুরুর দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় ৫১২ গিগাবাইট সংস্করণের দাম ৩ হাজার ৮৯৯ অস্ট্রেলীয় ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ৭৩৪ ডলার। প্রি-অর্ডার শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই কিছু মডেলের ডেলিভারির তারিখ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। অ্যাপল তখন বলেছিল, গ্রাহকদের সাড়া ‘অসাধারণের চেয়েও বেশি’। চাহিদা সামলাতে কোম্পানিটি একজন গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ দুটি ফোনের প্রি-অর্ডার নিয়েছে।
বিক্রির প্রথম দিনে ভিড় ছিল তুলনামূলক কম। কোম্পানি আগেই জানিয়েছিল, দোকানে এসে কিনতে চাওয়া গ্রাহকদের জন্য ফোনের মজুত সীমিত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো এবং যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে অনলাইন অর্ডার দোকানে গিয়ে নেওয়া যাবে, তবে হাতে হাতে বিক্রির জন্য ফোন কম আছে। চীন, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও আমিরাতে কেবল অনলাইন অর্ডার করা ফোনই দোকান থেকে নেওয়া যাচ্ছে।
আইফোন ডুও খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভাঁজযোগ্য পর্দা এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির বাইরের পর্দা দেয়। অ্যাপলের দাবি, ভেতরের পর্দাটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের চেয়ে ৫০ শতাংশ বড়। ফোনটিতে এ২০ প্রো চিপ, দুই ব্যাটারির ব্যবস্থা এবং আইপি৬৮ রেটিং রয়েছে। সাইড বাটনে টাচ আইডি আছে, ফেস আইডি নেই। রং দুটি—স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় ফোনটির ডিজাইন ও হিঞ্জের প্রশংসা করেছেন সমালোচকরা। দ্য ভার্জ লিখেছে, ভেতরের ম্যাট পর্দায় ভাঁজ প্রায় চোখে পড়ে না এবং এটি ব্যবহারে ভালো লাগে। ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে স্যামসাং ও হুয়াওয়ে কয়েক বছর ধরে প্রিমিয়াম মডেল বিক্রি করছে; অ্যাপলের প্রবেশকে এই বাজারের জন্য বড় ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, এটি এখনো প্রথম প্রজন্মের পণ্য। দ্য ভার্জের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বন্ধ অবস্থায় ছোট বাইরের পর্দায় দৈনন্দিন কাজ করা কষ্টকর, ফোনটি ভারী এবং বেশি ব্যবহারে গরম হয়। ক্যামেরার মানও এই দামের ফোনের তুলনায় মধ্যম; টেলিফটো লেন্স নেই। অনেক তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নতুন পর্দার মাপে পুরোপুরি কাজ করছে না। ব্যাটারি সারাদিন ভারী ব্যবহারে যথেষ্ট নাও হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক জন গ্রুবার লিখেছেন, এক সপ্তাহ ব্যবহারের পর ফোনটি ‘অসাধারণভাবে পরিশীলিত একটি প্রোটোটাইপ’ মনে হয়েছে, তবে এটি এমন চূড়ান্ত পণ্য নয় যা তিনি কিনে ব্যবহার করতে চান। ইউটিউব সমালোচক মার্কেস ব্রাউনলি বলেছেন, যাঁরা কেবল মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া আর ব্রাউজিং করেন, তাঁদের জন্য এটি সম্ভবত ‘না’; তবে যাঁদের জন্য ২ হাজার ডলার বড় বিষয় নয় এবং যাঁরা নতুন ফর্মফ্যাক্টর পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি মজার ফোন।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালে ভাঁজযোগ্য ফোনের মোট বিক্রয়মূল্যের ৪৪ শতাংশ পাবে অ্যাপল, যদিও ইউনিটের হিসাবে তার অংশ থাকবে ৩১ শতাংশ। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি এই বাজারে মূল্য ও ইউনিট—দুই হিসাবেই শীর্ষে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনে স্মার্টফোন বাজারে টানা ছয় প্রান্তিক ধরে শিপমেন্ট কমছে। মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় ফোনের দামও বাড়ছে। এর মধ্যেও প্রিমিয়াম ফোনে কিছু ক্রেতা বেশি খরচ করছেন, আবার অনেকে কম দামের মডেলে যাচ্ছেন। অ্যাপলের জন্য এটি একটি পরীক্ষা—নতুন ফোনটি প্রিমিয়াম বাজারের চাহিদা ধরে রাখতে পারে কি না।
বাংলাদেশে অ্যাপলের নিজস্ব স্টোর নেই। তাই ফোনটি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কবে পাওয়া যাবে এবং দাম কত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অনানুষ্ঠানিক ও রিসেলার চ্যানেলে ফোনটি কবে আসবে, তারও নিশ্চিত তথ্য নেই।
এখনো যা জানা যায়নি, তার মধ্যে আছে দীর্ঘ ব্যবহারে ভাঁজযোগ্য পর্দা ও হিঞ্জ কতটা টিকসই থাকে, অ্যাপ নির্মাতারা কত দ্রুত নতুন পর্দার জন্য অ্যাপ হালনাগাদ করবেন এবং সরবরাহ কবে চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে। বাংলাদেশে ফোনটির দাম ও বিক্রয়ের তারিখও অনিশ্চিত।
অ্যাপল বলছে, দোকানে ফোনের সরবরাহ বাড়াতে এবং অনলাইন অর্ডার দ্রুত পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, দোকানে হাতে হাতে বিক্রির মজুত সীমিত থাকবে।



