রাওয়ালপিন্ডিতে টার্গেট ছিল ৪৩০ রান। শেষ ওভারে দরকার ছিল আট রান। দুটি উইকেট পড়ার পরও মাথা ঠান্ডা রাখলেন জেনিথ লিয়ানাগে; পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করলেন। ৪৯ দশমিক ৫ ওভারে ৮ উইকেটে ৪৩০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় সফরকারীরা।
বৃহস্পতিবার ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে এই ফলাফল ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। আল জাজিরা ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টসে হেরে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান করে।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের কেন্দ্রে ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ১১৬ বলে ২০২ রান করেন তিনি, যাতে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছক্কা। পুরুষদের ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার পাশাপাশি এটি দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড; এর আগে ভারতের শুভমান গিল ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। শেষ বলেই আউট হন ব্রুক।
ব্রুককে সঙ্গ দেন জো রুট ও উইল জ্যাকস। ৬৬ বলে ৬৯ রান করেন রুট, যিনি ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে আট হাজার রান পূর্ণ করেন। মাত্র ৩০ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন জ্যাকস। শেষ দশ ওভারে ইংল্যান্ড ১৫৬ রান যোগ করে এবং পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবার কোনো দল ৪০০ ছাড়ানো ওয়ানডে স্কোর গড়ে।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ২৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলকে ফেরান আভিষ্কা ফার্নান্দো ও পাভান রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা ১৬৬ রান যোগ করেন। ফার্নান্দো ৮৩ বলে ৯৭ রানে থামলেও ১০৬ বলে ১৩০ রান করেন রত্নায়েকে; তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কা।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দাসুন শানাকা। ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল আটটি ছক্কা ও ছয়টি চার। রত্নায়েকে ও শানাকা—দুজনেই সেঞ্চুরি থেকে তিন রান দূরে থেকে আউট হন। শেষ পর্বে দায়িত্ব নেন লিয়ানাগে, যিনি ২৭ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন।
ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৩৪ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৪৩৮ রান তুলেছিল প্রোটিয়ারা। শ্রীলঙ্কার এবারের সংগ্রহ ৪৩০, যা সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। রাওয়ালপিন্ডির এই মাঠে আগের সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর ছিল ৩৭৫ রান, তাও এ দিন বহু পিছনে পড়ে যায়।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের আগের দুই ম্যাচেই জিতেছে পাকিস্তান—শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ফলে এই জয় শ্রীলঙ্কার জন্য সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার মতো হলেও পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান তাদের পেছনেই থেকে যায়। পরের ম্যাচে রোববার লাহোরে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের আগে আলোচনা ছিল ব্রুকের ফর্ম নিয়ে; ম্যাচের পর আলোচনা তাঁর ইনিংসটি কীভাবে হার হলো তা নিয়ে। ৮৫৯ রান ওঠা এই ম্যাচে বোলাররা প্রায় পুরোপুরি পেছনে পড়ে ছিলেন। রাওয়ালপিন্ডির ফ্ল্যাট পিচ ও ছোট বাউন্ডারি—দুই দলের ব্যাটিংয়ের এমন উৎসবের পেছনে বড় কারণ।
শ্রীলঙ্কার জন্য প্রশ্ন হলো, এই ফর্ম ধরে রাখা যায় কি না। ত্রিদেশীয় সিরিজে এখনো পর্যন্ত তাদের জয় একটিই এবং সেটি এসেছে সর্বোচ্চ চাপের ম্যাচে। ইংল্যান্ডের সামনে এখন লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ, যেখানে জিতলে সিরিজে তাদের অবস্থান আরও মজবুত হবে।



