জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে। দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের পদ অপরিবর্তিত রয়েছে।

নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুগ্ম আহ্বায়ক পদে অন্তত ১৫ জনের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদিব, ডা. আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারওয়ার তুষার, আকরাম হোসেন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আবদুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও মাওলানা আশরাফ মাহাদি।

তবে বিজ্ঞপ্তির পূর্ণ তালিকায় এর বাইরেও আরও কয়েকটি নাম যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে রয়েছে। সেখানে সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাস, সামান্থা শারমিন, ইশাক সরকার, তারেক ই আদেল ও একে ফ্লোরার নামও দেখা যায়। ফলে যুগ্ম আহ্বায়কের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা নিয়ে বিজ্ঞপ্তির বর্ণনা ও পূর্ণ তালিকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে ছয়জনকে। তাঁরা হলেন আলাউদ্দিন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস এম সাইফ মোস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারওয়ার নিভা, ফরিদুল হক ও মো. আতাউল্লাহ। দলটির রাজনৈতিক পরিষদেও ১৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে আগের মুখ্য সমন্বয়ক বা আঞ্চলিক মুখ্য সংগঠকের পদ রাখা হয়নি। এর বদলে আন্তর্জাতিক, আইন, প্রচার, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, শ্রম, ধর্মীয় বিষয়, পরিবেশ ও প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন তাহসিন রিয়াজ, প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন শিশির এবং আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা।

দল গঠনের সময় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন সামান্থা শারমিন। নতুন তালিকায় তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে রাখা হয়েছে। একইভাবে সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা এখন যুগ্ম সদস্যসচিবের তালিকায় আছেন। অর্থাৎ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদে দায়িত্বের স্তর বদলে গেছে, যদিও তাঁরা দলের কমিটিতেই রয়েছেন।

এনসিপি ২০২৫ সালের ১ মার্চ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আত্মপ্রকাশ করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত দলটি তখন ‘নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা’ ও ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা বলেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই দলটি এখন সংসদে প্রতিনিধিত্বও করছে।

পুনর্গঠনের প্রস্তুতি আগেই প্রকাশ পেয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর তিনটি কেন্দ্রীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছিল, শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসছে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হতে পারেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পাবেন। শুক্রবারের ঘোষণায় সেই কাঠামোই কার্যত নিশ্চিত হলো।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিপি দেশের ৬৪টি জেলায় কমিটি গঠন শেষ করেছে এবং উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি সেই সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

নতুন কমিটির সদস্যদের বিভাগীয় দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে, প্রথম বৈঠক কবে হবে এবং দলের জাতীয় কাউন্সিল কবে অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি। যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিব পদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও বিজ্ঞপ্তিতে অস্পষ্টতা রয়েছে।

এনসিপির এই পুনর্গঠন দলটির অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও আগামী নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শীর্ষ পদে না থাকলেও সামান্থা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভাকে কমিটিতে রাখার মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তি ধরে রাখার চেষ্টাও স্পষ্ট। তবে নতুন কমিটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পদবণ্টন ও স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।