কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস ঘিরে লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি এসেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হওয়ার কথা রয়েছে। জেলার শতাধিক হাটবাজার এখন সুপারি কেনাবেচায় মুখর।

লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেহমনী বাজারে সপ্তাহে দুই দিন সুপারির কেনাবেচা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশে সারি সারি সুপারির স্তূপ থেকে পাইকারি ক্রেতারা বাছাই করে বস্তা ও ঝাঁকায় ভরছেন। বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে প্রতি পণ (৮০টি) পাকা সুপারি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় এবং প্রতি কাউন (এক হাজার ২৮০টি) ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তেহমনী বাজারেই প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দেড় কোটি টাকার সুপারি কেনাবেচা হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত সুপারির প্রায় ৬০ শতাংশ পানি ভিজিয়ে সংরক্ষণ করা হয়; বাকিটা কাঁচা বা রোদে শুকিয়ে বিক্রি হয়। জেলার উল্লেখযোগ্য বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে রায়পুরের হায়দাগঞ্জ, বাসাবাড়ি, দেনায়েতপুর, খাসেরহাট ও মীরগঞ্জ এবং সদরের দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ ও মান্দারী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহির আহমেদ বলেন, ‘পাকা, শুকনা ও ভেজানো মিলিয়ে এ বছর প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি কৃষকেরা বিক্রি করতে পারবেন।’ তাঁর ভাষ্য, জেলার অর্ধেকের বেশি সুপারি আসে রায়পুর উপজেলা থেকে।

চাষিদের আগ্রহও বাড়ছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, গত বছর জেলায় ৭ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে সুপারিবাগান ছিল, যা বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৪২ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্য প্রায় ৪২ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন। একটি গাছ থেকে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ফলন পাওয়া যায়।

সুপারি ঘিরে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। রায়পুরের কেরোয়া এলাকার শ্রমিক রুবেল হোসেন ২০ বছর ধরে গাছ থেকে সুপারি পাড়ছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিটি গাছ থেকে পাড়ার জন্য ১০ টাকা করে পান; মৌসুমে দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ গাছে উঠে তাঁর দৈনিক আয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। একটি গাছ থেকে মৌসুমে দুই থেকে তিনবার সুপারি পাওয়া যায়।

রায়পুরের রাখালিয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমান দুই যুগ ধরে সুপারির ব্যবসা করছেন। তাঁর দাবি, প্রতি বছর তাঁর মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সুপারি কেনাবেচা হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষকের বিক্রি শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে ভেজানো সুপারির চাহিদা ও দাম বাড়ে।