সীমিত শিল্প জমিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে প্রতি একর জমিতে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ টানতে পেরেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। একই হিসাবে প্রতি একর জমি থেকে বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে বেপজার আয়োজনে ‘মিট দ্য ইনভেস্টরস’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম, কর্ণফুলী ও কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শতাধিক স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশ নেন। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা এবং বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যবসাবান্ধব করে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, জ্বালানি ও সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত এবং বাড়তি খরচের মধ্যেও দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিকতা তিনি প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষ্য, এসব অঞ্চলে তৈরি পোশাক, জুতা, গহনা, চশমা, ব্যাগ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং শান্তিরক্ষা মিশনের পোশাক-ইউনিফর্মসহ নানা পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

বেপজার হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছে। ওই অর্থবছরে জোনগুলোর রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থার সদস্য (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন) মো. তানভির হোসেন বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সেবা সহজ করার অগ্রগতি তুলে ধরেন। জানানো হয়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বেপজা এখন আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনা করছে; এসব অঞ্চলে ৩৮টি দেশের বিনিয়োগ এসেছে।

বেপজার হিসাবে এসব অঞ্চলে মোট বিনিয়োগ প্রায় ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং জমা রপ্তানি প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটির অঞ্চলগুলো দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এবং মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশের জোগান দেয়।

অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের কল্যাণ ও শ্রম মান উন্নয়নের উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, বিনিয়োগসেবা সহজ করতে ৪৫টি অনলাইন সেবা চালু করেছে বেপজা, চলছে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন (১৬১২৮) এবং বাস্তবায়ন চলছে এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমের। আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ সংশোধনের প্রস্তাবের কথাও বলা হয়।