নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের পুরোনো সিনেমা হলের পাশের এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি পাঁচ থেকে ছয়জন জড়িত এবং তাদের পেছনে অর্থদাতাসহ আরও বড় একটি চক্র রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে একটি দোকানে বসে আলাপ করছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি জানান, মাথা, ঘাড় ও বুকে গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় বা হত্যার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।

লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন। গত বছরের ১০ নভেম্বরও দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে হামলার শিকার হয়েছিলেন; সেবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে আহত করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি এখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বিত দল তদন্ত করছে।