রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে নেওয়ার প্রস্তাব আজ রোববার মন্ত্রিসভায় তোলা হচ্ছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব বিকাল সাড়ে চারটায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে শুরু হওয়া সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে মন্ত্রিসভা ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সরকার এরই মধ্যে স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হওয়া সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় স্থাপত্য অধিদপ্তরের তিনটি আলাদা নকশা উপস্থাপন করা হয়; পরে একটি নকশা চূড়ান্ত করা হয় এবং তার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন কমপ্লেক্সের আয়তন হবে ৩০ লাখের বেশি বর্গফুট। বর্তমান সচিবালয়ে জায়গা ১৭ থেকে ১৮ লাখ বর্গফুট, যেখানে ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কাজ করে। নতুন কমপ্লেক্সে ৫৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সব দপ্তর এক জায়গায় আনা হবে।
পরিকল্পনায় ১২টি ভবন রাখা হয়েছে, প্রতিটি ১২ তলা; আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নতুন কমপ্লেক্সে থাকবে চক্রাকার সড়ক, কেন্দ্রীয় মসজিদ, জিমনেশিয়াম, ফোয়ারা, পার্কিং ও কনভেনশন সেন্টার। আধুনিক স্থপতি লুই আই কানের নকশার ঐতিহ্য রক্ষার কথাও বলা হয়েছে।
সচিবালয়ের বর্তমান ১২টি প্রধান ভবনের মধ্যে আটটিই ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশিরভাগ ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। এই ভবনগুলো ভাঙা ও নতুন করে নির্মাণের আলোচনা থেকেই পুরো সচিবালয় সরানোর প্রস্তাব এগিয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পেছন দিয়ে নতুন একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা আছে, যা জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের (সাবেক গণভবন) পাশ দিয়ে মিরপুর সড়কে উঠবে। বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের সড়কের নিচ দিয়ে একটি পাতাল সড়ক করার আলোচনাও চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় সরাতে চান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত এপ্রিলে সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা ভবন নির্মাণের যে প্রস্তাব একনেকে তোলা হয়েছিল, তা অনুমোদন পায়নি; এরপর প্রধানমন্ত্রী নতুন সচিবালয়ের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন।
এদিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীরা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন। তাঁরা গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর শনিবার রাতে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি সরকারের বিবেচনায় আছে; উপযুক্ত জমি দেওয়ার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৬৯ সালের লুই আই কানের নকশার ভিত্তিতে ২০২৬ সালে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় সরানো ঠিক হবে না। আগারগাঁও ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় ইতিমধ্যে অনেক সরকারি স্থাপনা ও যানবাহন বেড়েছে; নতুন সচিবালয় হলে যানজট ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।



