ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি ও দেশের অন্য শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। ভোটার তালিকা পুনর্গঠনের সময় প্রায় ১৩ কোটি নাম মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে আন্দোলনকারীরা; তাদের ভাষ্য, এতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সুবিধা পাচ্ছে। অভিযোগটি অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দল।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা যুবসংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) যাত্রা শুরু হয়েছিল অনলাইনে ব্যঙ্গ-আন্দোলন হিসেবে। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে বাধ্য করার পর এবার তাদের দৃষ্টি ভোটব্যবস্থার দিকে। গত সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের দুই উপ-কমিশনার অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি তুলেছিলেন।
গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করে এবং শহরের কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। বন্ধ রাখা হয় মেট্রো স্টেশন, রাস্তা ও মোবাইল ইন্টারনেট। আটক হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও দুই জ্যেষ্ঠ নেতা। পরদিন আদালতের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তাঁরা; সেই সঙ্গে আটক হন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ অনেকে।
এরপরও বিক্ষোভ থামেনি। পুলিশ জন্তর মন্তরকে দিল্লির অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয় এবং বিকল্প তিনটি স্থান নির্ধারণ করে। গত সপ্তাহে আবারও আটক হন দীপকে—এবার এক সপ্তাহেরও কম সময়ে দ্বিতীয়বার। নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আন্দোলনের আরেক মুখ, ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়।
এদিকে আটক হওয়া বিক্ষোভকারীদের অনেককে শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেওয়ার পর নিরাপদে বাড়ি ফেরাতে এগিয়ে এসেছে ২৫ বছর বয়সী রাজীব চৌধুরীর স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক। ‘ডিটেইনি ঘরওয়াপসি যোজনা’ নামের এই উদ্যোগ এআই-সহায়ক ড্যাশবোর্ড, লাইভ ম্যাপিং এবং মাঠপর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠানো তথ্য ব্যবহার করে আটক-বাসের অবস্থান শনাক্ত করে আটকে পড়াদের গাড়ি ও সহায়তার ব্যবস্থা করে দেয়। হিন্দিতে ‘ঘরওয়াপসি’ মানে ‘ঘরে ফেরা’। নেটওয়ার্কটিতে এখন ১৩০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।
রাজীব চৌধুরী আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য নাবালক, বয়স্ক ও নারী—বিশেষ করে প্রথমবার বিক্ষোভে আসা মানুষদের সহায়তা করা। বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের একটি সংস্থা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেয়।
১২ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ২০২৭ সালের গোড়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন। সিজেপি বলছে, নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।



