সশস্ত্র বাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে নবম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়।
জাতীয় পতাকা পাওয়া ইউনিটগুলো হলো প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় পে-স্কেলে বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডকে কেবল একটি পতাকা নয়, বরং একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন এবং বাংলাভাষী সেনাসদস্যদের সংগঠিত করে সশস্ত্র সংগ্রামে নামার নির্দেশ দেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধ থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরদিন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



