কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে পাটুয়ারটেক এলাকার এই রিসোর্টে আগুন লাগে। ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, আগুন লাগার সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন পর্যটক ছিলেন।

আহত ছয়জনের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিসা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২) রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে; উখিয়া ইউএনও জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। বাকি নিহতদের পরিচয়ও এখনো শনাক্ত হয়নি।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পরিবারটির সদস্যরা হলেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত জ্যেষ্ঠ মার্কেটিং কর্মকর্তা নুর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে ফাইজান নূর (৫), ফারিয়ার ভাই নাসির উদ্দিন (২৫) এবং ফারিয়ার তিন বোন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩)।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন জানান, রিসোর্টটি দুইতলা এবং মূলত কাঠের তৈরি। জুন মাসে অগ্নিনিরাপত্তার ত্রুটি নিয়ে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর ভাষ্য, কাঠের ভবনে আগুন দ্রুত ছড়ায়, আর উপকূলীয় এলাকায় জোর বাতাসে তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছাড়াও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অ্যালার্ম, হোজপাইপ বা অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা—এসবের কোনোটিই ছিল না বলে জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি; আবেদনও করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি প্রায় সাত-আট মাস আগে নির্মিত হয়েছিল।

আগুনের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক ও ব্যবস্থাপককে আসামি করে মামলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও আসামির সংখ্যা বা পরিচয় জানাতে রাজি হননি। পুলিশ সূত্রের বরাত অনুযায়ী, মালিক তানভীর আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং ব্যবস্থাপক সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে; তিনি এখন হেফাজতে আছেন।

সিআইডির কক্সবাজার অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিচয় শনাক্তে কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে; প্রয়োজনে ঢাকা থেকে বিশেষ দল আনানো হবে। মরদেহগুলো আপাতত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে; ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এই ঘটনায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা বহু রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, ইনানীর এই ঘটনা তা আবার সামনে এনেছে।