হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলো রোববার (১৮ অক্টোবর)। গত বছরের এদিনে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের পর ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। এতে হাজার কোটি টাকার পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যায়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং বিজিবি কাজ করে। ওই দিন রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নিভতে সময় লাগে পরদিন বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত—প্রায় ২৭ ঘণ্টা। ঘটনায় ২৫ জন আনসার সদস্যসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি কার্গোসহ পুরো বিমানবন্দর এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে ১৪টি সুপারিশ করে। এর মধ্যে ছিল অস্থায়ী ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপন, স্প্রিংকলার ও ডিটেকশন সিস্টেম বসানো, জরুরি সংকেত স্থাপন, স্থায়ী ফায়ার স্টেশন নির্মাণ এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের অচল হাইড্রেন্টগুলো মেরামত।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, সুপারিশগুলোর প্রায় সবই এখন বাস্তবায়নের পথে। বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানান, বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে এবং টার্মিনাল এলাকায় কর্মরত ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে অগ্নিনিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধেও টহল চলছে বলে জানান তিনি।
তবে আমদানিকারকদের সংগঠনের দাবি, ঝুঁকি এখনো কাটেনি। শাহজালাল বিমানবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ভয়াবহ ওই আগুনের পর আমদানিকারকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, আর নতুন কার্গো কমপ্লেক্সও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি; শেডের ভেতরে ও বাইরে মালামাল পড়ে থাকলে অগ্নিঝুঁকি থেকে যায়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (কার্গো, অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাশিদুল করিম বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পুরো এলাকা আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব না হলেও কয়েকটি গেট তৈরি হয়েছে এবং কার্গো কমপ্লেক্সের একটি অংশ ব্যবহার শুরু হয়েছে; ফলে মালামাল খালাসে আগের মতো সময় লাগছে না।



