সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক ও অশালীন কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে তাঁরা অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত হন, যা মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘন করে। পরে আদালত ইসলামি আইনের ‘তাজির’ ধারায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন এবং রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর হয়। তবে ঠিক কী ধরনের কাজের অভিযোগে, মক্কার কোন মসজিদে এবং কবে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় দেশটির কনস্যুলেট জানিয়েছে, শাস্তি কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ঢাকার নজরে আসে। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ‘নোট ভারবাল’ পাঠানো হয়; শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত এর কোনো জবাব আসেনি।
গত শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি কখন ও কীভাবে ঘটেছে, তা বাংলাদেশের মিশনকে জানানো হয়নি। কেন জানানো হয়নি—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সৌদি সরকার এখনো দেয়নি, তাই তিনি আপাতত কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইনি কাঠামো ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে।
সৌদি আরবে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। না জানিয়ে শাস্তি কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের বিধান মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মাসিহ বলেছেন, বড় কোনো মামলায় সৌদি সরকার সাধারণত বাংলাদেশকে জানায় এবং দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বিচারকাজে হাজির থাকেন; তাই ‘না জানানোর’ দাবিটি তিনি বিশ্বাস করেন না।
ভিয়েনা কনভেনশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কনস্যুলেটকে জানানোর বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তবে আটক বিদেশি নাগরিকের কনস্যুলার সহায়তা নেওয়ার অধিকার এবং কোনো নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য ‘দেরি না করে’ সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কার্যালয়কে জানানোর কথা কনভেনশনে বলা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন বিচারের সময় আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, পরিবারকে প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছিল কি না বা তাঁদের কত দিন হেফাজতে রাখা হয়েছিল—এসব এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



