কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), চিপ, জৈবচিকিৎসা ও সৌর প্রযুক্তির মোট ৪০টি প্রযুক্তির রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছে চীন। গত শুক্রবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ঘোষণাপত্র নম্বর ৪৮’ নামের এই খসড়া প্রকাশ করে। এতে ১৪টি প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে রপ্তানি নিষিদ্ধ এবং বাকি ২৬টি প্রযুক্তির রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়াটি নিয়ে ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত জনমত সংগ্রহ করা হবে। এরই মধ্যে এসব প্রযুক্তির রপ্তানিতে অস্থায়ী নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিদেশে লাইসেন্স দেওয়া কিংবা মালিকানার নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার মতো ক্ষেত্রেও এই নিবন্ধন প্রযোজ্য হবে।

এআই খাতের ২৩টি প্রযুক্তি তালিকায় আছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ভাষা মডেল, এআই এজেন্ট, কম্পিউটিং ক্লাস্টার, চিপ ডিজাইন ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি। তবে যে প্রযুক্তি ইতিমধ্যে ওপেন সোর্স বা গবেষণাপত্রে প্রকাশ্যে চলে এসেছে, সেগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ঊর্ধ্বে থাকা বড় মডেলের ওজন (ওয়েট) ও সোর্স কোডও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসবে।

সৌর খাতের ১২টি প্রযুক্তি তালিকায় যোগ করার কথা বলা হয়েছে—এর মধ্যে পলিসিলিকন উৎপাদন, ওয়েফার ও সেল তৈরির প্রযুক্তি রয়েছে। পেরোভস্কাইট ও ট্যানডেম সৌর মডিউল তৈরির প্রযুক্তির রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধের প্রস্তাবও রয়েছে। জৈবচিকিৎসা খাতে সেল ও জিন থেরাপি এবং ক্ষুদ্র নিউক্লিক অ্যাসিডভিত্তিক ওষুধ সংক্রান্ত পাঁচটি প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার কথা হয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এআই, জৈবচিকিৎসা ও সৌর প্রযুক্তির ব্যবহার সংবেদনশীল খাতে বাড়ছে। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা এবং প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এআইয়ের বেশিরভাগ প্রযুক্তি আগের মতোই অবাধে রপ্তানি করা যাবে এবং ওপেন সোর্স এআইসহ উন্মুক্ত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং সহজ করা হবে।

নতুন এই উদ্যোগ চীনের প্রযুক্তি খাতের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌর প্যানেল ও এআই মডেল রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য থাকায় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চীনের দাবি, এই নিয়ন্ত্রণ কোনো নির্দিষ্ট দেশ, অঞ্চল বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নয়।