বিমান ভাড়ার বকেয়া বাবদ ৩৭ লাখ ডলারের বেশি শোধ না করার কারণে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠান এইচজি এভিয়েশন লিমিটেডের অবসায়ন (লিকুইডেশন) করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইলমিংটন ট্রাস্ট কোম্পানির করা মামলায় কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৪১(৫) ও ২৪৫ ধারার অধীনে এ আদেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম গত ১৯ আগস্ট এই রায় দেন। ১৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। রায়ে আদালত বলেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনার আশ্রয় নিয়ে স্বীকৃত ও বর্তমানে পরিশোধ্য কোনো ঋণ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
মামলার নথি অনুযায়ী, ‘মালিক ট্রাস্টি’ হিসেবে ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৩৭-৭০০ বিমান লিজ দিতে এইচজি এভিয়েশনের সঙ্গে চুক্তি করেছিল উইলমিংটন ট্রাস্ট। ওই চুক্তির শর্ত ভেঙে বিমান ভাড়াসহ বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। পাওনাদারের হিসাবে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৮২৭ ডলার ৩৮ সেন্ট।
বকেয়া পরিশোধে ২০২০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তিন দফা আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর এইচজি এভিয়েশন তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে দায় স্বীকার করে কিস্তিতে টাকা শোধের নতুন সময়সূচি মেনে নেয়, কিন্তু সেটিও মানতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২৩ সালে হাবিব গ্রুপের ১১টি কোম্পানির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে অবসায়নের আবেদন করে উইলমিংটন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু এইচজি এভিয়েশনের অবসায়নের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অবসায়ন কার্যক্রম তদারকি ও বকেয়া আদায়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ারকে সরকারি অবসায়ক (অফিসিয়াল লিকুইডেটর) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করতে এবং দুই মাসের মধ্যে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মামলায় এইচজি এভিয়েশনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পাওনাদার প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী মো. মোক্তাদির রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় বকেয়া আদায় না হলে আদালত গ্রুপের বাকি ১০ কোম্পানির ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিতে পারেন। ওই ১১ কোম্পানির কাছে বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামে হাবিব ট্রেডিং দিয়ে যাত্রা শুরু করা হাবিব গ্রুপ পরে পোশাক, বস্ত্র, জাহাজ ভাঙা, ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাগজসহ নানা খাতে ব্যবসা বাড়ায়। তবে ২০১৯ সাল থেকে গ্রুপের কোম্পানিগুলো ঋণ পরিশোধে খেলাপি হতে শুরু করে এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। গ্রুপের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমানে চারটি চালু আছে এবং কর্মীর সংখ্যা এক সময়ের ১৬ হাজারের বেশি থেকে এক হাজারের নিচে নেমে এসেছে।



