রাজধানী ঢাকায় আগামী ২৫ অক্টোবর কমপক্ষে দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। সম্প্রতি করা এক সমীক্ষায় চিহ্নিত ৩২টি রুটের মধ্যে ছয়টিতে বাসমালিকেরা আগ্রহ দেখিয়েছেন।

ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিশারি পরিবহন, স্বাধীন পরিবহন ও রজনীগন্ধাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং রমজান আলী প্রস্তাবিত রুটগুলোতে বাস চালাতে আগ্রহী। অন্যদিকে ঢাকা চাকা ও গুলশান চাকা ২০২৫ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রস্তাব করা ২২টি চক্রাকার রুটে সেবা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

ডিটিসিএ গত বুধবার ডিএমপি, ঢাকা বাস ট্রান্সপোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এক সমন্বয় সভা করে। গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হওয়া সভার পরিপ্রেক্ষিতে এই সভা হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অন্তত দুটি রুটে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর নির্দেশ দেন এবং ছয় মাসের মধ্যে ৩২টি রুটে ব্যবস্থাটি চালুর সময়সীমা বেঁধে দেন।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। বাসের ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার দায়িত্ব থাকবে ওই কোম্পানির। পরিকল্পনায় কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকেটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিংও রয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিটিসিএর তথ্যে ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে এখন সচল ৯৮টি। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাস চলাচলের অনুমতি রয়েছে। সংস্থার প্রস্তাব হলো, এসব রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টিতে আনা হবে।

তবে পথচলা সহজ নয়। প্রতিটি রুটের জন্য আলাদা কোম্পানি গঠন, বাস স্টপেজ পুনর্বিন্যাস, নির্ধারিত ওঠানামার স্থান তৈরি, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা সরানোর মতো কাজ বাকি আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আগামী ২২ অক্টোবর ডিএমপি আরেকটি সভা করে অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। ওই সভাতেই কোন দুইটি রুট দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা শুরু হবে তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। ২০০৪ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব ছিল। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক আটটি রুটে একেক রঙের বাস চালানোর উদ্যোগ নেন; তাঁর মৃত্যুর পর তা আর এগোয়নি। ২০২১ সালে ২৪৬টি কোম্পানিকে একীভূত করে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শুধু রুট কমিয়ে ৩২টি করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি রুটে বাসের সংখ্যা ও মান নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানো-নামানো, সময়সূচি মেনে চলা এবং আইন ভাঙলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সরকারি নীতিসহায়তা ও ব্যাংকঋণের সুবিধা না পেলে নতুন বাস চালু করা কঠিন হবে বলে তিনি জানান।