কানাডার অন্টারিওর নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কাছে বন্ধ হয়ে যাওয়া সামুদ্রিক পার্ক মেরিনল্যান্ড থেকে গত গ্রীষ্মে ৩০টি বেলুগা তিমি ও কয়েকটি ডলফিনকে যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের বিভিন্ন অ্যাকুয়ারিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু স্থানান্তরের পর পাঁচটি বেলুগা তিমি ও একটি ডলফিন মারা যাওয়ায় এই উদ্ধার অভিযানের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মেরিনল্যান্ড ১৯৬১ সাল থেকে চালু ছিল এবং একসময় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন পার্ক ছিল। দীর্ঘদিনের মালিকের মৃত্যু, প্রাণী কল্যাণ নিয়ে উদ্বেগ ও আর্থিক সংকটের মুখে ২০২৪ সালে পার্কটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তিমিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি দেখাশোনার সক্ষমতা তাদের আর নেই এবং সরকারি সহায়তা বা স্থানান্তরের অনুমতি না পেলে সেগুলোকে মেরে ফেলতে হতে পারে।
কানাডার সরকার প্রাণী কল্যাণের উদ্বেগের কারণে তিমিগুলোকে চীনে বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অ্যাকুয়ারিয়াম মিলে আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং তিমিগুলোকে চিকাগো, আটলান্টা, সান দিয়েগো, সান আন্তোনিও এবং স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় পাঠানো হয়।
চিকাগোর শেড অ্যাকুয়ারিয়ামে সবচেয়ে বেশি প্রাণী মারা গেছে। স্থানান্তরিত পিকাচু (২৩), রেইন (২০), ওসিরিস (২৬) ও কাস্পিয়ান (২৭) এবং শেডের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বিথোভেন (৩৪) মারা যান। এছাড়া স্পেনের ওশেনোগ্রাফিক ভ্যালেন্সিয়ায় মারা যায় জেলি বিন নামের বেলুগা ও ইকো নামের ডলফিন।
ময়নাতদন্তে পিকাচু ও রেইনের পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ পাওয়া গেছে। তাদের পেটে পালক, বড় পাথর ও রঙের মতো ছোপসহ বিভিন্ন বহিরাগত বস্তু মিলেছে; শেডের ধারণা, শিকাগোতে আনার আগেই তারা এসব খেয়ে ফেলেছিল। ওসিরিসের দেহে দীর্ঘস্থায়ী যকৃতের রোগ শনাক্ত হয়।
প্রাণী কল্যাণ সংস্থা ওয়ার্ল্ড অ্যানিমেল প্রোটেকশনের হিসাবে, বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন হাজার ৬০০টি সিটাসিয়ান—অর্থাৎ তিমি, ডলফিন ও পোরপয়েস—বন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্দি অবস্থায় বড় হওয়া তিমিদের বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়; তাই বিশেষজ্ঞরা নোভা স্কটিয়ার উপকূলে ‘হোয়েল স্যাংচুয়ারি প্রজেক্ট’-এর মতো সামুদ্রিক অভয়াশ্রয় গড়ে তোলার কথা বলছেন, যা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
কানাডিয়ান প্রেসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেরিনল্যান্ডে প্রায় ২০টি তিমি মারা গেছে। কানাডা ২০১৯ সালে তিমি-ডলফিনের বন্দিত্ব ও প্রজনন নিষিদ্ধ করলেও, যেসব দেশে এই প্রাণীগুলোকে পাঠানো হয়েছে সেখানে এমন নিষেধাজ্ঞা নেই—ফলে বন্দিত্ব পুরোপুরি শেষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় স্থানান্তরের ফলাফল নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। শেড কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার করা বাকি বেলুগাগুলোর মধ্যে ইতিবাচক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে ভালোভাবে খাওয়াও রয়েছে।



