ডিআর কঙ্গোর সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার নেতৃত্বে নতুন একটি রাজনৈতিক-সামরিক জোট গঠিত হয়েছে। ‘ফ্রন্ট ফর দ্য রিফাউন্ডেশন অব দ্য নেশন’ (এফআরএন) বা জাতি পুনর্গঠন ফ্রন্ট নামের এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয় পূর্ব কঙ্গোর গোমায়, কাবিলার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে।

নতুন এই জোট প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তিশিসেকেদির সরকারের বিরুদ্ধে ‘দুঃশাসন’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে এবং ‘সব উপায়ে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও’ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা সুলতানি মাকেঙ্গাকে কাবিলার চারজন উপ-নেতার একজন করা হয়েছে। জোটটি কঙ্গো নদী জোট (এএফসি) ও এম২৩-এর পুরোনো মিত্রজোটের জায়গা নিয়েছে।

নিজের বাবার গুপ্তহত্যার পর ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসেন কাবিলা এবং ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে তিশিসেকেদির হাতে যায়, যা ছিল কঙ্গোর ইতিহাসে প্রথম। তবে গত বছর অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রদ্রোহ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কাবিলাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় দেশটির এক সামরিক আদালত; তিনি রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এম২৩-কে সহায়তার অভিযোগে গত মে মাসে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

জোট ঘোষণার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। এর আগে সরকারের মুখপাত্র পাত্রিক মুয়াইয়া কাবিলাকে ‘অতীতের মানুষ’ বলে অভিহিত করে বলেছিলেন, তিনি ‘বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেন না’। এদিকে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী সাবেক স্পিকার ভিতাল কামেরহে বিদ্রোহী জোটের নেতাদের সশস্ত্র সংগ্রাম ছেড়ে সংলাপের পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

পূর্ব কঙ্গোর এই সংঘাত কয়েক দশক ধরে চলছে; এতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোও জড়িয়ে পড়েছে। সংঘাত নিরসনে কাতারের দোহা ও যুক্তরাষ্ট্র আলাদা কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন জোট বলছে, দোহা আলোচনায় করা প্রতিশ্রুতিগুলো তারা মানবে। তবে কাবিলার এই নেতৃত্ব বিদ্রোহকে নতুন রূপ দেবে, নাকি শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।