আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটে জেতার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউ হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় সাড়ে চারশ নেতা-কর্মী অংশ নেন। নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তাই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন প্রার্থী বাছাই করতে হবে, যাঁকে জনগণ গ্রহণ করবে এবং যিনি ভোটে জিততে পারবেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নেতা-কর্মীদের আরও সজাগ থাকতে বলেন। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে অপরাধ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন, দলের কেউ অপরাধে জড়াতে পারবেন না; এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নামে ছড়ানো গুজব ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের ভালো কাজ মানুষের কাছে তুলে ধরার কথাও বলেছেন তিনি।
সভার আগে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নগরের রহমতগঞ্জে জেএম সেন হলের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। একই দিন তিনি রংপুর ও রাজশাহীর পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন। রাতেই তিনি চট্টগ্রাম ছেড়ে যান।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেএম সেন হল ও র্যাডিসন ব্লু হোটেলের সামনে নেতা-কর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত ৯ আগস্ট প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে আসেন তারেক রহমান। ওই সফরে তিনি বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে হোটেল র্যাডিসন ব্লুতেই নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই দিনের সভায় তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সুযোগ দেওয়া হবে। দলীয় সূত্র বলছে, সেই সভার পর সংগঠনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করাও মঙ্গলবারের সভার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
সভায় উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী নির্ধারণের আগে নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, প্রার্থী বাছাইয়ের লিখিত মানদণ্ড কিংবা মনোনয়ন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে সভায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। নির্বাচন কমিশন বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়াও এই প্রতিবেদন লেখার সময় পাওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রামের তিন ইউনিটের সাংগঠনিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে। এর আগে গত ৯ আগস্টের সভায়ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দলীয় ঐক্য নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।



