হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানগুলো শুধু প্রতিরক্ষামূলক মিশন চালাবে; হুতিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হামলা করবে না। সৌদি আকাশসীমায় ‘প্রতিরক্ষামূলক কাউন্টার এয়ার মিশন’ পরিচালনা করবে তারা।

যুক্তরাজ্য একটি এ৪০০এম আটলাস পরিবহন বিমান, সামরিক উপদেষ্টা এবং সৌদি কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য অতিরিক্ত সামরিক সহায়তাও পাঠাবে। সৌদি যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি দিতে ইতিমধ্যে মোতায়েন আরএএফ ভয়েজারের মিশন আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হুতির হামলা ‘ঘৃণ্য’। বিশেষ করে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা সংঘাত বাড়ানোর মাত্রা দেখায়। এ কারণেই তিনি অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা অনুমোদন করেছেন বলে জানান তিনি।

ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০ বার হামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে চলমান এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৯ জনের প্রাণ গেছে।

হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে তাদের ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এতে জ্বালানির দাম বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার তীব্র হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে আসছে। সৌদি আরব, ইয়েমেন সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হুতিদের সমর্থনের অভিযোগ করে; তেহরান তা অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সামরিক মিত্র। বেজ সিস্টেমসের সঙ্গে ৭২টি টাইফুন সরবরাহের চুক্তি রয়েছে দেশটির; আরও ৪৮টি বিমান কেনার আলোচনাও বছরের পর বছর ধরে চলছে।