কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টায় সোমবার একটি প্রাদেশিক ভোট হয়েছে। মূল প্রশ্ন ছিল, আলবার্টা কানাডার অংশ হিসেবে থাকবে, নাকি স্বাধীনতার বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের জন্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে।
প্রাথমিক ফলাফলে ওই প্রস্তাব ব্যাপকভাবে নাকচ হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির হিসাবে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল আসার পর কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট পড়েছে ১৩ লাখ ৭ হাজার ৭শ’র বেশি, আর গণভোটের প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫শ’র বেশি। আল জাজিরা জানিয়েছে, অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটি নাকচ করেছেন।
স্পষ্ট করা দরকার, ভোটটি সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষে বা বিপক্ষে ছিল না। ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রদেশটি কানাডার সঙ্গে থাকবে, নাকি সরকার স্বাধীনতার বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। থাকার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানে এই মুহূর্তে স্বাধীনতার গণভোটের পথ বন্ধ থাকছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আলবার্টাবাসী একটি পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সবকিছুর আগে আলবার্টাবাসী কানাডাকে বেছেছেন।’ আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ বলেছেন, ভোটাররা ‘সংযুক্ত কানাডায় একটি শক্তিশালী আলবার্টা’র পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হাল ছাড়তে রাজি নন। আন্দোলনের অন্যতম নেতা জেফ্রি রাথ বিবিসিকে বলেছেন, তাঁদের আন্দোলন থামছে না। ভবিষ্যতে বারবার স্বাধীনতা ভোট চাওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কেন নয়?’
একই দিনে আলবার্টার ভোটাররা আরও নয়টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যার পাঁচটি অভিবাসন এবং চারটি সাংবিধানিক বিষয়ে। প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল প্রদেশের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ানো, কিছু সামাজিক সেবা পাওয়ার শর্ত কঠোর করা এবং ভোটে পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা। দশটি প্রশ্নে মোট ৫৫ লাখের বেশি বৈধ ভোট পড়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হবে বৃহস্পতিবার। কানাডার ইতিহাসে এর আগে কুইবেক প্রদেশে ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালে দুটি স্বাধীনতা গণভোট হয়েছিল, দুটিতেই বিচ্ছিন্নতার পক্ষ হেরেছিল। ১৯৯৫ সালের ভোটে ব্যবধান ছিল খুবই কম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আবেগের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ। ফলাফল যাই হোক, প্রদেশের রাজনীতিতে এই বিতর্ক আগামী দিনেও থাকবে।



