বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু রাজধানীর বাজারে ভোক্তারা এখনো ওই সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনছেন।
১২ অক্টোবর রাজধানীর ১০টি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ১২ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকার কমে মিলছে না। শ্যামবাজারের এক বিক্রেতা বলেন, তিনি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে প্রতিটি সিলিন্ডার ২ হাজার ১৫০ টাকায় কিনেছেন। দোকান ভাড়া ও ডেলিভারি খরচ যোগ করলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
একই জরিপে ১০টি দোকানের মধ্যে একটিতে সিলিন্ডারের স্টক ছিল না। গত ৪ অক্টোবরের জরিপে ১০টির মধ্যে আটটি দোকানে স্টক ছিল না। ওই সময় সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়, যখন সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, দেশে এলপিজির ঘাটতি নেই। সংস্থাটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না এবং ভোক্তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে। সরকার বলেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলপিজি ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশব্যাপী এলপিজি বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দিয়ে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানায়। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পুনর্বিবেচনা করে গণশুনানি হবে।
লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, কোনো অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর বা খুচরা বিক্রেতা অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি স্বীকার করেছেন, ভোক্তারা নিয়ন্ত্রিত দামের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন।
বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। সর্বশেষ বর্ধিত দামে ১২ কেজি সিলিন্ডারের প্রতিকেজি দাম দাঁড়িয়েছে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা, অটোগ্যাসের দাম ঠিক হয়েছে লিটারপ্রতি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।



