গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে ছাঁটাই-সংক্রান্ত নোটিশ টাঙানো হয় এবং মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকেরা নামের তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন।
ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। মঙ্গলবার থেকে এই ছাঁটাই কার্যকর হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুসারে অতিরিক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।
গত ৬ জুন থেকে ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে কারখানাগুলো লে-অফে ছিল। কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানোর পর এই ছাঁটাই করা হলো। এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রথম দফায় ৬১৩ থেকে ৬২৭ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। দুই দফায় মোট চাকরি হারালেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি।
ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকেরা। প্রায় ১৯ বছর ধরে কারখানায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করা আবেদা বেগম বলেন, এত বছর কাজ করে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে। ১৮ বছর ধরে সুইং সেকশনে কাজ করা ইয়াসমিন বেগম বলেন, চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান এই ছাঁটাইয়ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরিসহ ন্যায্য পাওনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশ ও মহানগর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগ হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।



