মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে বিমা খাতে নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনায় বেনামে, ছদ্মনামে বা কাল্পনিক নামে বিমা পলিসি খোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন করলে তা বিএফআইইউকে জানাতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশের সব বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বিএফআইইউ বলছে, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ এবং বিমা খাতকে আর্থিক অপরাধের অপব্যবহার থেকে রোধ করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
নির্দেশনা অনুযায়ী, একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-নথি অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে। জটিল, অস্বাভাবিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসংগতিপূর্ণ লেনদেনে বাড়তি নজর রাখতে বলা হয়েছে।
পলিসি খোলার আগে গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ে কঠোরতা আনা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, ছবি ও ঠিকানার তথ্য নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন উৎস থেকে যাচাই করতে হবে। গ্রাহকের পক্ষে অন্য কেউ পলিসি চালালে তার বৈধ ক্ষমতা যাচাই এবং প্রকৃত মালিকানা ও সুবিধাভোগী শনাক্ত করতে হবে।
বিদেশি বাণিজ্যভিত্তিক বিমার ক্ষেত্রে এলসি নম্বর, আমদানি-রপ্তানি চুক্তি, পণ্যের বিবরণ ও জাহাজীকরণ নথি ব্যাংকের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানের নামে পলিসি হলে নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি ও ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিককে প্রকৃত সুবিধাভোগী ধরে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
সরকার বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী যাতে বিমা সেবার সুবিধা না পায়, তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিমা কোম্পানিকে প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ইউনিট ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন পর্যালোচনা করে সন্দেহজনক তথ্য পেলে বিএফআইইউকে জানাবে।



