ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর এক প্রশিক্ষণ শিবিরে সোমবার হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি ও আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যাটি প্রাথমিক এবং বাড়তে পারে।

শাবওয়া প্রদেশের গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আল-আলাম শিবিরের শহীদ আহমেদ আল-সুলাইমানি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আঘাত করে। সেখানে কয়েকটি প্রদেশের নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

প্রাদেশিক উপগভর্নর ফাহাদ আল-খলিফি সংবাদসংস্থা এএফপিকে বলেন, হাসপাতালগুলোতে চাপ পড়ায় গুরুতর আহতদের প্রতিবেশী হাদরামাউত ও আদেনে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি হামলার নিন্দা করেছেন এবং কঠোর জবাবের অঙ্গীকার করেছেন। তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি বলেছেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সামরিক লক্ষ্য না হওয়ায় এই হামলা যুদ্ধাপরাধ।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁরা আল-আলাম শিবিরে ‘সৌদি শত্রু’ বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করেছেন এবং শিবিরটি সৌদি অফিসারদের পরিচালনায় ছিল। এই দাবির স্বাধীন প্রমাণ দেয়নি হুতিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই থেকে হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। চলতি মাসে সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হুতিদের হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রিয়াদের বাসিন্দাদের ‘শত্রুপক্ষের আকাশ হুমকি’ নিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এদিকে হুতি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, রোববার সাদা প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন হামলায় একটি বাড়িতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলারও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।