ভারতের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে চলা বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ অর্থাৎ ক্ষমতা বদলের প্রসঙ্গে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। সোমবার তিরুবনন্তপুরমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন থারুর।
রিজিজু এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিরোধী নেতাদের বক্তব্যের একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘ভারত বাংলাদেশ নয়’। ভারতের যুবসমাজ দেশ গড়বে, ধ্বংস করবে না—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। জবাবে থারুর বলেন, ‘আমি মনে করি ভারত বাংলাদেশ নয়, ভারত ফ্রান্সও নয়। এই তুলনাগুলো আমি প্রাসঙ্গিক মনে করি না।’
কংগ্রেস নেতা বলেন, বিরোধীরা কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বিশ্বাস করে। ফ্রান্সে বাস ও পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, সহিংসতাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।
‘রেজিম চেঞ্জ’ শব্দটি বিকৃত করারও সমালোচনা করেন থারুর। তাঁর ভাষায়, বিরোধীরা সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে না; তারা চাইছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এটি একটি সাংবিধানিক ইস্যু।
রিজিজু অভিযোগ করেছিলেন, কিছু ‘ভারতবিরোধী’ গোষ্ঠী ও রাজনীতিক তরুণদের উসকানি দিয়ে দেশে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই ভারতে সরকার বদল সম্ভব।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কর্মসূচিতে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৩ কোটিরও বেশি নাম প্রাথমিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস, ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থি দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে দিল্লিতে বিক্ষোভ করছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা বিরোধীদের সমালোচনা করেছেন। থারুর সেই তুলনাকে প্রাসঙ্গিক মনে করছেন না।



