সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারামে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে এক নারী ও এক পুরুষ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ—কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দুজনের পরিচয় প্রকাশ করেনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সঠিক হলে তথ্য আদান-প্রদান ও প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোথাও ঘাটতি ছিল। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটি ব্যাখ্যা চাইছি।’ এর আগে রোববার এ ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে আনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজনকে ২০২৩ সালে আটক করা হয়েছিল। সরকার রায়ের কপির জন্য অপেক্ষা করছে বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের এক নম্বর গন্তব্য; সেখানে চার লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড হওয়া পুরুষ ব্যক্তির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। তাঁর মা রহিমা বেগম বিবিসি বাংলাকে বলেন, মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে দালালের মাধ্যমে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর ছেলে সৌদি আরবে যায়। রিয়াদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন তিনি; যাওয়ার ছয় মাস পর ২০২৩ সালে আটক হন।

পরিবারের ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার তিন দিন আগে রোববারও জেল থেকে ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ প্রকাশের পর তাঁরা খবর পান। ছেলের ফুফু খবর শুনে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। তাঁরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, দুজনের একজনের পরিচয় সম্পর্কে সরকারিভাবে এখনো কোনো তথ্য পাননি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ বলেন, ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী আটকের পরপরই দূতাবাসের সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার ছিল ওই দুই বাংলাদেশির।

এ ঘটনার অনেক তথ্য এখনো অনিশ্চিত। দুজনের পরিচয়, মৃত্যুদণ্ডের তারিখ ও রায়ের বিস্তারিত সরকারিভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রায়ের কপি পেলে বিস্তারিত জানানো হবে।