শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে অংশ নেওয়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলেদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কলিকাল চরে এই ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জেলেদের আটক করা হয়।

অভিযানটি শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্বে ভোররাত থেকে চলছিল। এতে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। বিলাসপুর ইউনিয়নের সফি কাজীর মোড় এলাকা থেকে শুরু হয়ে অভিযানটি পালেরচর পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে বলে জানিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)।

অভিযান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে টিবিএস জানায়, কলিকাল চরে অভিযান চলার সময় শতাধিক জেলে সংগঠিত হয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা করেন। তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়েও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হন।

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান জোরদার করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও ওঠে। জব্দ করা হয় প্রায় দুই লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ।

আটকের সংখ্যা নিয়ে প্রাথমিক তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন বলছে, ৩৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। টিবিএস এবং সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম ৪১ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অভিযান এখনো চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করায় জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, তিনি ঘটনাটিকে নিজের ওপর হামলা হিসেবে দেখছেন না। জেলেরা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে তাঁর ভাষ্য।

মা ইলিশ রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, বিপণন, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ। শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রায় ৭১ কিলোমিটার পদ্মা নদী প্রবাহিত।

জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৩ হাজার। নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৯২৯ জনকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। টিবিএস জানায়, গত ১২ দিনে ২১টি অভিযানে ৪১ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।