মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তার অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বা দলকে অস্বস্তিতে না ফেলার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

পদত্যাগের পরেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বিএনপির কর্মী হিসেবে এই কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে দলের সংগঠনেও কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর যাচাইকৃত ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গেন্ডারিয়ার রেললাইনের কাছে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গাড়ি থেকে নেমে হাতে পিস্তল নিয়ে তিনি একটি দলকে ধাওয়া করছেন। তাঁর همراهদের কেউ কেউও হাতে অস্ত্র নিয়ে ছিলেন।

এই ঘটনার পর অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ফুটেজ পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইশরাক হোসেন অবশ্য বলেছেন, তাঁর অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রটি অল্প সময়ের জন্য উঠিয়েছিলেন। তিনি নিজের পদক্ষেপকে ভুল বলেননি।

২০২৬ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক হোসেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে।

পুলিশের ফুটেজ পর্যালোচনা এখনো শেষ হয়নি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতের রায় নেই। ইশরাক হোসেনের দাবি ও পুলিশের তদন্ত—দুই বিষয়ই আলাদা করে দেখা হচ্ছে।