৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে নাম না আসা প্রার্থীরা সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে তাঁরা পাঁচ দফা দাবি জানান।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনঃগেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা, আইনগত বাধা নেই এমন প্রার্থীদের বিষয় পুনর্বিবেচনা করে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ, বাদ পড়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি।

গত ১৪ অক্টোবর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ১ হাজার ৮০৭ জনকে সুপারিশ করলেও গেজেটে নিয়োগ পান ১ হাজার ৭০২ জন। বাদ পড়েন ১০৫ জন। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন এবং একজনের সুপারিশ বাতিল হয়। বাকি ৫৬ জন কী কারণে বাদ পড়েছেন, তা তাঁরা জানেন না।

অবস্থান কর্মসূচিতে মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মনিরুজ্জামান বলেন, কোনো অপরাধ না করেও তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর কারণ তিনি জানেন না। তিনি বলেন, চার-পাঁচ বছর পরিশ্রম করে বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

আরেক প্রার্থী ফেরদৌস খান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তবু গেজেটে নাম না থাকায় বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। তিনি ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত প্রার্থীদের অনেকেই কৃষক ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলে জানান।

মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না এলে তাঁরা ২৩ অক্টোবর ‘আত্মাহুতি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ‘কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। নতুন গেজেট প্রকাশ হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

এর আগে ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, বিসিএস নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য করা হবে না। তবে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী ধারণা করছেন, তাঁদের পুরোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে গেজেটে নাম আসেনি। এই ধারণার সরকারি ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।