মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

এর আগে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁর পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী তা প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন।

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য। গত শনিবার বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকার গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন তিনি। ওই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রথমে এই নির্দেশের খবর অস্বীকার করেন ইশরাক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পরে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, তিনি আত্মরক্ষার জন্য সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন এবং কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর পদ না থাকলেও সাধারণ কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কাজ চালিয়ে যাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান; ইশরাক হোসেন তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা ২৩ জনে নামল। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৬ জন।

আট মাসের সরকারে এর আগে দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন—পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপন।