বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে উন্নতি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস)। গত জুনে ঢাকায় পরিচালিত এক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

হোম অফিসের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের তিন কর্মকর্তা ৭ থেকে ১৫ জুন ঢাকায় মিশনটি চালান। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক ও গবেষকসহ ১৫টি সূত্রের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং সাধারণভাবে উন্নতি করেছে।

রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় কাজ করা, মতামত প্রকাশ ও জনআলোচনায় অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনকে সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক কম সহিংস বলে বর্ণনা করেছেন সূত্রগুলো। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতাও কমেছে। যেসব সহিংসতা এখনো ঘটছে, তা সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত এবং স্থানীয় প্রভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ঘটছে।

তবে প্রতিবেদনে দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি ও কার্যকারিতা এবং অভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সীমিতভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে এসব মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ মানুষ মুক্তি পেয়েছেন এবং অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২১ হাজারের বেশি এমন মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরোনো মামলাগুলোর পর্যালোচনা এখনো চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ এখনো নিষিদ্ধ। দলটির প্রতি জনগণের একটি অংশের বিরূপ মনোভাবও রয়েছে। তবে দুর্নীতি, সহিংসতা বা দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এমন নিম্নপর্যায়ের সমর্থকদের সাধারণত নিজেদের এলাকায় থাকতে সমস্যা হচ্ছে না। এরপরও দলটির প্রকাশ্য সমর্থকদের হয়রানি, সামাজিক বিরূপতা বা সহিংসতার মুখে পড়তে হতে পারে।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতা, কর্মী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক সরকারের সময়ের অভিযোগ এবং জুলাইয়ের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সাধারণ আদালতে মামলা চলছে। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রয়েছেন।

প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্মকর্তা ও বিচারকরা আশ্রয় ও মানবাধিকারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহার করেন। তবে প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট আশ্রয় দাবি নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটির বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের সুযোগ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।