মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ ফোবোস থেকে মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফেরানোর অভিযানে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে জাপান। জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাকসা) পরিচালিত ‘মার্স মুন্স এক্সপ্লোরেশন’ (এমএমএক্স) মিশনের মহাকাশযানটি সোমবার রাতে এইচ-৩ রকেটে করে তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে রকেটটি উড়ে যায়।
মিশনটি সফল হলে মঙ্গলগ্রহ এবং তার উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে আনার প্রথম অভিযান হবে এটি। জাকসার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
মহাকাশযানটি আগামী বছরের আগস্টে মঙ্গল এলাকায় পৌঁছানোর কথা। এরপর প্রথমে ছোট উপগ্রহ ডিমোস পর্যবেক্ষণ করবে এটি। পরে ফোবোসের চারপাশে ঘুরে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ চালাবে এবং ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ইদেফিক্স’ নামের একটি রোভার অবতরণ করাবে। রোভারটি অবতরণের উপযুক্ত জায়গা যাচাই করার পর মূল মহাকাশযানটি দুই দফায় ফোবোসের মাটিতে নামবে এবং রোবোটিক হাত দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে।
জাকসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ফোবোস ছেড়ে মহাকাশযানটি পৃথিবীর পথে রওনা হবে। ২০৩১ সালে একটি ক্যাপসুলে করে নমুনা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নামানো হবে।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে ফোবোস ও ডিমোস কীভাবে তৈরি হয়েছে। দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। একটিতে বলা হয়, মঙ্গলে বড় কোনো বস্তুর আঘাতের পর ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে এই উপগ্রহ দুটি তৈরি হয়েছে। অন্য ব্যাখ্যায় বলা হয়, এগুলো মূলত দুইটি গ্রহাণু, যেগুলোকে মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ আটকে ফেলেছে।
নমুনার রাসায়নিক ও খনিজ উপাদান পরীক্ষা করে কোন ব্যাখ্যাটি সঠিক, তা দ্রুত বোঝা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক সারা রাসেল বলেন, এই দুই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের ফলাফল দেবে। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ক্রিসা অ্যাভডেলিডু বলেন, সামান্য পরিমাণ নমুনা হলেও প্রতিটি কণা নিয়ে গবেষণা সম্ভব।
ফোবোস মঙ্গলের একেবারে কাছ ঘেঁষে ঘোরে। তাই মঙ্গলে উল্কাপাতের সময় ছিটকে পড়া ক্ষুদ্র কণা ফোবোসের গায়ে জমা হতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, সংগ্রহ করা নমুনার মধ্যে মঙ্গলগ্রহের নিজস্ব উপাদানও থাকতে পারে, যা লাল গ্রহটির ইতিহাস বোঝাতে সাহায্য করবে।
আগে নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ মঙ্গল নমুনা সংগ্রহের মিশনটি অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার পর কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। চীন ২০২৮ সালে নিজেদের মঙ্গল নমুনা অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করেছে। এর আগে জাপানের হায়াবুসা-২ অভিযান গ্রহাণু রিউগু থেকে নমুনা এনে সফল হয়েছিল।



