যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক সরকারি সংস্থাগুলোকে চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের পণ্য ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিপসিকের তৈরি এবং তৃতীয় পক্ষের যেসব পণ্য বা সেবা ডিপসিকের মডেল ব্যবহার করে তৈরি, সেগুলোও সরকারি সংস্থার আইটি ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি চুক্তিতেও ডিপসিক অংশ নিতে পারবে না। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মডেলে ‘একাধিক ঝুঁকি’ রয়েছে। সরকারি কর্মচারী বা ঠিকাদার ডিপসিক ব্যবহার করলে সংবেদনশীল তথ্য চীনে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বিভাগের যুক্তি, ডিপসিকের সার্ভার চীনে অবস্থিত। সেখানে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় ব্যাপকভাবে ঢুকতে পারে। এ ছাড়া মডেলের ভেতরে ম্যালওয়্যার বা অন্য নিরাপত্তা ত্রুটি থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএইচএস বেসামরিক সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে, তবে সামরিক বা গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মন্তব্য চাওয়া হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ডিপসিক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চক্ষমতার চ্যাটবট নিয়ে আন্তর্জাতিক সাড়া ফেলে। এ বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি নতুন মডেল ভি-৪ প্রকাশ করে এবং এ মাসে তার আরও দ্রুত ও হালকা একটি সংস্করণ উন্মোচন করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ডিপসিকসহ শীর্ষ চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মডেলের সক্ষমতা পদ্ধতিগতভাবে হাতিয়ে নিয়েছে।

তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও গত সেপ্টেম্বরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে যোগাযোগের একটি চ্যানেল খোলার ব্যাপারে একমত হয় ওয়াশিংটন ও বেইজিং। আগামী মাসে চীনের শেনচেনে দুই দেশের নেতাদের শীর্ষ বৈঠকে বিষয়টি আবার ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, ডিপসিকের মন্তব্যের জন্য তাদের যোগাযোগের পর প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।