সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড গত ১৪ অক্টোবর কার্যকর করা হয়েছে। কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি আদালতের রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা; কপি হাতে পেলে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রায়ের কপি হাতে পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানাতে ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারব।’

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিতালিকায় তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার বলে ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয়, অভিযোগের বিস্তারিত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকার কাছে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম কল্যাণ শাখা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্টে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং গত ১৪ অক্টোবর তা কার্যকর করা হয়। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপিল আদালতে ১৩ জন বিচারকের প্যানেল মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অভিযোগের প্রকৃতি ও বিচারের পূর্ণ বিবরণ সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিতভাবে নেই।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সৌদি কর্তৃপক্ষ জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলকে প্রায় দুই হাজার ৫০০ বন্দির একটি তালিকা দেয়। ওই তালিকায় দুজনের নাম থাকলেও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তথ্য ছিল না। তালিকায় একজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচার’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে ‘আইসিটি’ লেখা ছিল বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্র দেয়। ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর কাছেও ওই পত্রের কপি দেওয়া হয়। জেদ্দার কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফারিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠকে কেন আগে জানানো হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন বলে ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি আরব নিয়মিতভাবে দেশটিতে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের মিশনগুলোকে পাঠায়। ওই তালিকায় দুজনের নাম আছে কি না, সরকার তা যাচাই করছে। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো বিস্তারিত তথ্য নেই এবং দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রায়ের কপি পাওয়ার পর সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

সৌদি আরব বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও সাংবাদিকদের কাছে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।