মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের অনুমোদনের হার তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রোববার ও সোমবার প্রকাশিত দুটি নতুন জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে, আর তা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে ইপসসের চার দিনের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাজে সন্তুষ্ট ৩১ শতাংশ মার্কিনি। দুই সপ্তাহ আগের জরিপের চেয়ে এই হার এক শতাংশ পয়েন্ট কম এবং তাঁর দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। জরিপে অংশ নেন এক হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক, যাঁদের মধ্যে এক হাজার ২৭৯ জন নিবন্ধিত ভোটার। ভুলের প্রান্তিক সীমা দুই শতাংশ পয়েন্ট।
কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলকে চান—এমন প্রশ্নে ৪৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের বেছে নিয়েছেন। ১২ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান চলতি নির্বাচনী চক্রে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় এগিয়ে থাকা; দুই সপ্তাহ আগে তা ছিল ৪৪ বনাম ৩৭ শতাংশ। নারী ভোটারদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকানকে সমর্থন জানিয়েছেন।
জরিপে ৬৮ শতাংশ মার্কিনি অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কর্মক্ষমতায় অসন্তুষ্ট, যাঁদের ৩৭ শতাংশ নিজেদের রিপাবলিকান বলে পরিচয় দেন। অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরাই বেশি যোগ্য বলে মনে করেন ৪০ শতাংশ, বিপরীতে রিপাবলিকানদের বলেছেন ৩৩ শতাংশ।
ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে মার্কিন হামলার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াকে এই অসন্তোষের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জরিপের ফল বিশ্লেষণ করে রয়টার্স লিখেছে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজ-ইপসসের আলাদা জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩৩ শতাংশ এবং অসন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা তীব্রভাবে অসন্তুষ্ট। ২০২৫ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর আর্থিকভাবে আগের চেয়ে খারাপ আছেন বলে জানিয়েছেন ৪৮ শতাংশ—১৯৮৬ সালের পর এই জরিপে কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে যা সর্বোচ্চ। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৬৬ শতাংশ মার্কিনির ধারণা ট্রাম্প রাষ্ট্রপতির পদকে নিজের আর্থিক লাভে ব্যবহার করছেন।
এনবিসি নিউজের ডিসিশন ডেস্ক জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন দেশ ভুল পথে চলছে—ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই হার সর্বোচ্চ। ওই জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ৩৪ শতাংশ, যা তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বরে। হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটি নির্ধারিত হবে ওই ভোটে।



