দেশের ২৫টি সরকারি জলমহাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত মেয়াদে এসব জলমহাল ইজারা দেওয়া হবে। সভায় ২০ একরের বেশি আয়তনের জলমহালের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাব ছিল মৌলভীবাজারের ১১টি, রংপুরের একটি, সিলেটের ১৯টি ও কুষ্টিয়ার তিনটি—মোট ৩৪টি। কমিটির সদস্যদের যাচাই-বাছাই শেষে সর্বসম্মতিতে ২৫টি জলমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বরিশালের দুর্গাসাগর দিঘি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিল চুড়ইল, মৎস্য অধিদপ্তরের নিমগাছি প্রকল্পের ৭৭৯টি পুকুরের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হবিগঞ্জের বিল সুতী নদী (বদ্ধ) জলমহাল নিয়েও আলোচনা হয়।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা এবং সরকারি রাজস্ব বাড়াতে জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। উন্মুক্ত ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোকে ইজারার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই ইজারার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। অন্যায় তদবির না নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সুপারিশ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ জেলার ৮২৮টি জলমহাল ইজারা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯ জেলার ৭৮৬টি জলমহালের বিপরীতে ৪১১টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি অনলাইনে আবেদন করে। এর আগে ২৫ জেলার ১৭৪টি জলমহালের প্রস্তাব কমিটির ৮৯তম, ৯০তম ও ৯১তম সভায় উপস্থাপন করা হয়।