অর্থসংকটের কারণে গাজায় খাদ্য সহায়তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি বলছে, এতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা থেকে বাদ পড়ছেন।

ডব্লিউএফপি সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় মাসিক সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা গত মাসের ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামানো হচ্ছে। গত তিন বছর সংস্থাটি গাজার ৯০ শতাংশ পরিবার পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছিল।

খাদ্য রেশনও অর্ধেক করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার এখন দুই প্যাকেটের বদলে এক প্যাকেট খাদ্য এবং ছোট বস্তার গমের আটা পাবেন। আটা ও রেশন বাক্স পাওয়া মানুষের সংখ্যা ১১ লাখ থেকে কমে দাঁড়াবে ৬ লাখে।

কমিউনিটি কিচেনে প্রতিদিন বিতরণ করা গরম খাবারের সংখ্যা আড়াই লাখ থেকে দেড় লাখে নামছে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখা ‘হলুদ লাইন’ সংলগ্ন দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিনের বদলে এক দিন পর পর গরম খাবার পাবেন। ৭৫ হাজার পরিবারের নগদ সহায়তাও কমানো হচ্ছে।

ডব্লিউএফপি বলছে, ২০২৬ সালে ফিলিস্তিনে তাদের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অর্ধেকেরও কম পেয়েছে তারা। গাজা ও পশ্চিম তীরে আগামী ছয় মাস (অক্টোবর ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৭) কাজ চালিয়ে যেতে সংস্থাটির আরও ৪৫ কোটি ডলার দরকার।

জাতিসংঘের হিসাবে গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ—জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ—তীব্র খাদ্য সংকটে আছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষ জরুরি অবস্থায় আছেন, যেখানে ক্ষুধায় মৃত্যু ঠেকাতে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।

গাজার ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। পাঁচজনের মধ্যে কেবল একজন শিশু যথেষ্ট বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার পায়। প্রায় ২১ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত এবং দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বেঁচে থাকতে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

ডব্লিউএফপির ফিলিস্তিন কার্যক্রমের পরিচালক শন হিউজ বলেন, চাহিদা কমেনি এবং সংস্থার সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও রয়েছে; সহায়তা কমানো হচ্ছে শুধু অর্থের অভাবে। পশ্চিম তীরেও সেপ্টেম্বরে সহায়তা গ্রহীতার সংখ্যা অর্ধেক করে চার লাখ থেকে দুই লাখে নামানো হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির এক বছর পরেও গাজায় সহিংসতা চলছে এবং পুনর্নির্মাণ শুরু হয়নি। শীত সামনে রেখে খাদ্য সহায়তা কমায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মানবিক কর্মীরা।